লামায় পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

0
173

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, লামা :

বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় কেটে বেড়ার ঘর নির্মাণ করে জমি জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভা এলাকার লাইনঝিরি গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইদ্রিস মুন্সির ছেলে মো. ছায়েদ আলী (৭৫), তার ছেলে মুজিবুল হক (৩৫) ও ফজল করিম (৪০) পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করছেন বলে জানান মো. আলী আজম (৬৭)। আলী আজম সম্পর্কে অভিযুক্ত ছায়েদ আলীর আপন ছোট ভাই। এ ঘটনায় মো. আলী আজম বাদি হয়ে গত শুক্রবার রাতে বড় ভাইসহ তিনজনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, ১৯৮০ সালে লামা পৌরসভা এলাকার লাইনঝিরি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী আজম ২৯৩ নম্বর ছাগলখাইয়া মৌজার জি/২০৫নম্বর আন্দরে চার একর তৃতীয় শ্রেণির জমি বন্দোবস্তি পান। বন্দোবস্তির পর তিনি ওই জমিতে বাগান সৃজন করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভোগ করে আসছেন। বর্তমানে বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই জমির ওপর মো. ছায়েদ আলীসহ অন্যরা জমি দখলে নিতে বিভিন্ন সময় অপচেষ্টা শুরু করেন। এ ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর সকালে ছায়েদ আলীসহ অন্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমি জবর দখলের উদ্দেশ্যে জমির পাহাড় কাটা শুরু করেন। এ সময় আলী আজম পাহাড় কাটায় বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে প্রায় ১৫ শতক আয়তনের পাহাড় কেটে ফেলে মো. ছায়েদ আলী সহ অন্যরা। পরে এ ঘটনায় তিনজনকে বিবাদী করে মো. আলী আজম উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করেন (যাহার পিটিশন নম্বর-৬৫/২০২০, তারিখ- ২৫/১১/২০২০ইংরেজি)। এ প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশ পেয়ে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় নালিশী জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই পক্ষকে নির্দেশ দেন থানা পুলিশ। কিন্তু মো. ছায়েদ আলী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৩ ডিসেম্বর  ভোরে বিরোধীয় জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে বাঁশের বেড়া ফেলে পাহাড় কাটার স্থান আড়ালের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ছায়েদ আলী গং। পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করে অভিযুক্ত ছায়েদ আলী ও মুজিবুল হক বলেন, কারো জমিতে নয়; আমরা আমাদের জমিতে ঘর নির্মাণ করেছি। তাছাড়া আলী আজমের জমির অবস্থান আমাদের জমিরও পশ্চিমে। এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা বলেন, ছায়েদ আলীগং কর্তৃক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।