ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ড্রয়িং খাতার মেঘের বাড়ি

বিচিত্র কুমার »

একদিন সকালে ছোট্ট রিয়ান তার ড্রয়িং খাতা নিয়ে বসেছে। স্কুল থেকে বাড়ির কাজ দেওয়া হয়েছে-’আমার স্বপ্নের বাড়ি’ আঁকতে হবে।

-advertise-

বন্ধুরা কেউ নদীর ধারে বাড়ি আঁকবে, কেউ পাহাড়ের ওপর বাড়ি। কিন্তু রিয়ান ভাবল, সে এমন একটি বাড়ি আঁকবে যা কেউ কোনোদিন আঁকেনি।

সে আকাশের সাদা মেঘের দিকে তাকিয়ে একটি মেঘের বাড়ি আঁকতে শুরু করল। নরম সাদা মেঘ দিয়ে তৈরি দেয়াল, রঙধনুর ছাদ, আর তুলোর মতো নরম বাগান। ছবি আঁকা শেষ হতেই আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। খাতার পাতায় আঁকা ছোট্ট দরজাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।

ভেতর থেকে একটি মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এল, ‘রিয়ান, আমাদের মেঘের বাড়িতে এসো!’

রিয়ান অবাক হলেও সাহস করে দরজার কাছে গেল। দরজায় হাত দিতেই সে মুহূর্তের মধ্যে মেঘের বাড়িতে পৌঁছে গেল।

চারদিকে সাদা নরম মেঘ। রঙিন ফুলে ভরা সুন্দর বাগান। ছোট ছোট মেঘশিশুরা সেখানে খেলছে। তারা রিয়ানকে দেখে খুব খুশি হলো।

একটি মেঘশিশু বলল, ‘আমি মেঘু। আজ তুমি আমাদের অতিথি।’

রিয়ান তাদের সঙ্গে খেলতে লাগল। সবাই মিলে হাসছে, দৌড়াচ্ছে, গান গাইছে। এমন সময় আকাশে কালো ধুলোমেঘ এসে হাজির হলো। সে মেঘের বাড়ির সব রং মুছে দিতে লাগল। ফুলগুলো ফ্যাকাশে হয়ে গেল। চারদিকে মন খারাপের পরিবেশ।

রিয়ান একটি রঙ-পেন্সিল হাতে নিল। সে সুন্দর সুন্দর ফুল, রংধনু, পাখি আর হাসিমুখ আঁকতে শুরু করল। আশ্চর্য! সে যত ছবি আঁকছে, চারপাশ ততই রঙিন হয়ে উঠছে।

ধুলোমেঘটি অবাক হয়ে বলল, ‘আমি কখনো এত সুন্দর রং দেখিনি। তাই অন্যদের রং নষ্ট করতাম।’

রিয়ান হেসে বলল, ‘রং নষ্ট করলে আনন্দও নষ্ট হয়। সবাই মিলে আনন্দ ভাগ করে নিলে পৃথিবী আরও সুন্দর হয়।’

ধুলোমেঘ তার ভুল বুঝতে পারল। সে আর কখনো কারও আনন্দ নষ্ট করবে না বলে কথা দিল।

বিদায়ের সময় মেঘু রিয়ানকে একটি ছোট্ট রঙ-পেন্সিল উপহার দিল। সে বলল, ‘যখনই তুমি ভালোবাসা দিয়ে ছবি আঁকবে, পৃথিবীর কোনো না কোনো শিশুর মুখে হাসি ফুটবে।’

হঠাৎ রিয়ানের চোখ খুলে গেল। সে আবার নিজের পড়ার টেবিলে বসে আছে। সামনে খোলা ড্রয়িং খাতা। কিন্তু খাতার ওপর সত্যিই একটি ছোট্ট রঙ-পেন্সিল পড়ে আছে।

পরদিন স্কুলে রিয়ানের ছবিটি দেখে শিক্ষক খুব খুশি হলেন। তিনি বললেন, ‘সুন্দর ছবি শুধু রং দিয়ে নয়, সুন্দর মন দিয়েও আঁকা যায়।’

রিয়ান মুচকি হেসে আকাশের মেঘগুলোর দিকে তাকাল। তার মনে হলো, মেঘের বাড়ির বন্ধুরা এখনো তাকে হাত নেড়ে ডাকছে।