সুপ্রভাত স্পোর্টস ডেস্ক »
১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফুটবল জিতল স্পেন। দাপটের সঙ্গে খেলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছে।
টানা দু’বার বিশ্বকাপ হাতে তোলা হল না লিয়োনেল মেসির। রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে গেল আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোল ফেরান তোরেসের। নিকো উইলিয়ামসের অসাধারণ ক্রস থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন তিনি।
এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল আর্জেন্টিনা। বস্তুত, তারা এতটাই খারাপ খেলেছে যে কী করে এই দল ফাইনালে উঠেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ১২০ মিনিটের ফুটবলে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার খেলায় কোনও পরিকল্পনাও চোখে পড়েনি। কৌশলের দিক থেকে গোটা ম্যাচেই পিছিয়ে থেকেছে তারা। স্পেনের ফুটবলারদের পিছনে দৌড়ে গিয়েছেন। বলের পিছনে তাড়া করেছেন। কিন্তু বল পাননি। সামনের দিকে কোনও পাসও খেলতে পারেননি।
মেসিকে গোটা মাঠে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁকে বল পাস করতেই পারেননি সতীর্থেরা। শেষের দিকে তেড়েফুঁড়ে বেশ কয়েক বার আক্রমণ করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০ জনের দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না ওই জায়গা থেকে ম্যাচে ফেরা। বরং একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান আরও বেশি হতে পারত।
স্পেনের খেলার মধ্যে শুরু থেকেই একটা উদ্দেশ্য ছিল। যে ভাবে তারা খেলে এসেছে সে ভাবেই শুরু করেছিল। অর্থাৎ বল ধরে রাখা মাঝখান অথবা প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ করা। সেই সঙ্গে পাস খেলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে দেওয়া। এই কাজে মুখ্য ভূমিকা নেন রদ্রি। সঙ্গে বাঁ প্রান্তে সাহায্য করেন আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুয়েরা। ডান প্রান্তে থাকেন লেমিনে ইয়ামাল। আর্জেন্টিনার উচিত ছিল কুকুরেয়া এবং ইয়ামালকে বল দেওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া। সেই কাজ করতেই পারল না তারা। বল পেয়ে বার বার ইয়ামাল এবং কুকুরেয়া উঠে এলেন। চেষ্টা করলেন একের পর এক ক্রস এবং সেন্টার করার। আর্জেন্টিনার রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় এবং ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ব্যস্ত থাকতে হল গোটা ম্যাচ।
ফাইনালের পরিসংখ্যান দেখলে আর্জেন্টিনার হতশ্রী দশা আরও স্পষ্ট হবে। স্পেনের ২০টি শটের বদলে আর্জেন্টিনা নিয়েছে মাত্র তিনটি শট। তিনটিই এসেছে শেষের তিন-চার মিনিটে। বল পজেশন স্পেনের ৬৮ শতাংশ, আর্জেন্টিনার ৩২ শতাংশ। মোট পাস, নিখুঁত পাস, কর্নার— সব বিষয়েই আর্জেন্টিনার থেকে অনেক যোজন এগিয়ে ছিল স্পেন। তাই বিশ্বকাপ যে তারা যোগ্য দল হিসাবেই জিতেছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকার কথাই নয়।

















































