১৪ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি দুই সেতু

0
158

পেকুয়ার সাথে মহেশখালীর সংযোগ সেতু ও উজানটিয়ার সাথে করিয়ারদিয়া সেতু

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :

২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে সেতুটি নির্মাণকাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনবার পাঁচবছর মেয়াদে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু টানা ১৪ বছর সময় দেখতে দেখতে আর শেষ হয়নি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সাথে মহেশখালী সংযোগ সেতু ও পেকুয়ার উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া সেতুর কাজ। দ্বীপ উপজেলার মহেশখালীর উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে মাতামুহুরি নদী বঙ্গোপসাগরে মিশেছে পেকুয়ার উজানটিয়া নদী হয়ে। এই উজানটিয়া নদীর মোহনা অভিমুখে ২০০৬ সালের মে মাসে ২শ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। একই সময়ে উজানটিয়ার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া জনপদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সৈকত বাজার এলাকায় উজানটিয়া নদীর উপর ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরও একটি সেতুর কাজ শুরু করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেসময় এই দুটি সেতুর পিলারের কাজ শেষ করা হয়।

কিন্তু এক-এগারোর পর দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সবকিছু থমকে যায়। সেই থেকে গেল চৌদ্দ বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, প্রথম সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় পাঁচ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ছয় কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দুটি সেতুরই কাজ পান ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চকোরী কনস্ট্রাকশন।অভিযোগ উঠেছে, এক-এগারোর পর ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে গেলে সেতু দুটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, করিমদাদ মিয়ার ঘাট এলাকায় নির্মাণ হতে যাওয়ার মতো পেকুয়া-মহেশখালী সংযোগ সেতুটির উদ্বোধনের নামফলকটি ক্ষয়ে গেছে। নদীর তলদেশ থেকে নির্মাণ করা পিলারগুলো পানির স্রোতে কাত হয়ে যাচ্ছে। পিলার ভেঙে প্রায় অর্ধেক অংশের লোহার রড কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সেতুর মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই।স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু দুটি নির্মিত হলে উজানটিয়া ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগে নতুন দ্বার খুলে যাবে।

কিন্তু আজ এত বছর ধরে সেতুর নির্মাণকাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর নেই।করিয়ারদিয়া এলাকার বাসিন্দা পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক জিকু বলেন, সেতু দুটি নির্মিত হলে চিংড়ি ও লবণ পরিবহনের খরচ কমে যাবে। উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ দুটি সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে একটি টিম এসে পরিদর্শনও করেছেন।

তারা সেতু দুটি অতি শিগগির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সাত বছরেও তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তবে, সেতু দুটি নির্মিত হলে অবহেলিত জনপদে উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সেতু দুটির নির্মাণে প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী মেয়াদ ছিল ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ না করায় পরবর্তীতে দুই সেতুর নির্মাণকাজের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পের সেতু নির্মাণ প্রকল্পে এখন টাকার সংকট রয়েছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি এ প্রকল্পের ডিপিটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাস হলেই ফের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তারপর শুরু হবে দুটি সেতুর নির্মাণকাজ।