নিজস্ব প্রতিবেদক »
চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের এক কাজীর সংরক্ষিত বালাম বই পর্যালোচনায় ৩৩টি বিবাহ নিবন্ধনে সাক্ষীর স্বাক্ষর সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ।
আদালতের আদেশে বলা হয়, একটি মামলার শুনানিকালে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেন যে, কাজী মৌলানা মো. ইসমাইল খান সাক্ষীদের স্বাক্ষর ছাড়া বিবাহ নিবন্ধন করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বালাম তলব করলে কাজী বালাম সহ হাজির হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনিয়মের কোন সদুত্তর না পাওয়ায় বালাম বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বালাম বই নং- ০২, ২০২৪ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৪, ৩৭, ৩৮, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৬৫, ৭০, ৭২, ৭৯, ৮১, ৮২, ৮৬ ও ১০০ নম্বর পাতায় সাক্ষীর স্বাক্ষরের নির্ধারিত স্থানে কোনো স্বাক্ষর নেই। এছাড়া ১৬, ২১, ২৫, ৩০, ৪১, ৪৫, ৫৯, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৭, ৭১, ৭৩, ৭৪, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৯২, ৯৫ ও ৯৭ নম্বর পাতায় দুই সাক্ষীর পরিবর্তে মাত্র একটি স্বাক্ষর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩৩টি বিবাহ নিবন্ধনে সাক্ষীর স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুসলিম বিবাহে দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি ও স্বাক্ষর বিবাহের বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ ছাড়া বিবাহ নিবন্ধন করা মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ২২-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিধি ১১ অনুযায়ী পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয়। কারণ দর্শানোর জবাবে কাজী মৌলানা মো. ইসমাইল খান বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তবে আদালত তার ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক মনে করেননি। ফলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক, নিবন্ধন অধিদপ্তরের নিকট প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে অনুলিপি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বিচারিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, আইনানুগতা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জন্যও আইন যথাযথভাবে অনুসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে থাকবে।


















































