বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

বৃষ্টির দিনে

নিবেদিতা বড়ুয়া

একটি একটি ইট গেঁথে শ্রাবণের জোৎস্না আঁকি
নক্ষত্রের অলৌকিক ছায়ায়
নদীর মতো প্রবাহে নয় ,
গভীরতায় এক টুকরো আলো নীরব ভাষায়
বেদনার মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দাঁড়ায় মেঘ পাহাড়ের গায়
শঙ্খচিল শূন্যতা লুকায় কেবল ভিজে যাওয়া রাতে
আকাশ ছুঁয়ে যায় দুরত্বের অদ্ভুত আকুলতায়

-advertise-

ওই দিগন্ত রেখায় শুধু অরন্য বীজ অঙ্কুরিত হয়
আকাশভাঙা বৃষ্টির দিনে
কী আর করি বলো ?
শুধু বর্ষাটা তোমাকে দিতে পারি ভিজিয়ে
এবার চশমাটা মুছে নাও-
পাখি ডাকা ভোরে।

 

বিবর্তিত সময়

সুশান্ত হালদার

মৃত্যুর ঠিক তেইশ বছর পরে
ফিরে এসে দেখলাম…..
কীর্তিনাশা নদী গর্ভবতী হয়েছে বানভাসি জলে
দূরে, ঝাউ আর পাইনবনে যে চাঁদ নেচেছিল শরৎ উৎসবে
সে এখন গলা ডুবিয়ে সাঁতার কাটে শীতলক্ষ্যা জলে,
অথচ তুমি
ক্রুশকাটা বুক দেখিয়ে এখনো সেই যুডাস শিবিরে
রাষ্ট্রের যোনি উর্বর করছো নপুংসকদের ইরোটিক শীৎকারে,
এ আমারই ভুল
অমার্জিত বিশ্বাসে তোমাকেই টেনেছি কাছে ‘ইসাবেলা চুম্বনে’

মৃত্যুর ঠিক তেইশ বছর পরে
তোমাকে দেখলাম…
বিবর্তিত সময়ে ভুলে গেছো অ্যান্টনি ‘ক্লিওপেট্রা বিস্ময়ে’ !

 

 

লিমেরিক

রূপক বরন বড়ুয়া

১)
বৃষ্টিতে ভিজে গেছি রাস্তায়
ছাতায় মানে না ঝড়ো হাওয়ায়
ভেজা শরীর
অদ্ভুত গভীর
কাকভেজা দেহে ফিরছি ডেরায়।

২)
ঝড়ের তীব্রতা ধ্রুপদ শব্দে
নাচে চালে জল ধারা লব্ধে
পথ ঘাট উপচায়
স্রোতের ধারায়
দুর্ভোগ বন্যায় জীবন যায় জব্দে।

৩)
কদমের ঘ্রাণ ভেসে যে আসে
প্রেম দূর বনে সৌরভে হাসে
ফুলের শোভায়
সবুজ মায়ায়
জলপ্রেম বুকে প্রকৃতি ভাসে।

৪)
বৃষ্টিতে ডোবা নদী নালা
জলে থৈ থৈ স্নানে গাছপালা
নামে বন্যা
ভূমির কান্না
জীবন নৌকা জপে জলমালা।

 

সারথি

সারমিন চৌধুরী

আমি নীরব নিভৃতে
হাসিমুখে হজম করে নিতে পারি অমৃত গরল
আমি হাসতে হাসতে ভান করি সুখের
বাতাসও টের পায় না এতটা নিখুঁত ভনিতা;
হে প্রিয় একাকিত্ব তুমিই যে সারথি!

 

রক্তমুখী নীলা

শাহীন মাহমুদ

যোগীগন বৃষ্টি চায়-
দোষ শুধু চাতকের!
তাপদাহ হতে মুক্তি
যোগিনী পেতেছে আসন
শঙ্খ বাজছে, সানাই বাজছে
বৃষ্টি ঝরছে অবিরাম
ভাসবে আজ ইন্দ্রনীলার শরীর।
ইন্দ্রনীলার কথা – নাকি তোমার?
এবার না হয় তোমার কথা বলি
উপরে তুমি নীলকান্তমণি
আর ভিতরে! ভয়াবহ সোশিওপ্যাথ
ব্যক্তিত্বের ব্যাধিতে তুমি ডিজঅর্ডার
বৃষ্টিবিলাস শুধু তোমার ?
মানলাম না…
তোমার বৃষ্টি এবার আমার তাপদাহ
ডুবে যাও তুমুল বৃষ্টিতে- ডুবে মরো
আমি জেগে উঠবো- তীব্র দাবানলে
মেন্টাল প্রেমিকার চেয়ে কবিতার ছাইপাঁশ
অনেক ভালো-ভালো
ছুঁড়ে ফেললাম রক্তমুখী নীলা…।

 

 

ভেঙে যাওয়া ঘর আমার

নিঃশব্দ আহামদ

এসব স্তম্ভ, একেবারে মামুলি- ঘুণেধরা জীর্ণতায়
সয়ে সয়ে ঝড় ধকল, বলো কতো আর টেকে ঘর
এই ঠান্ডা হাওয়ার রাতে, চাঁদও করে বিভ্রম
কোথায় হায় আমার সে ঘর
উদ্বাস্তু বেশে, হাপিত্যেশে আঁকড়ে থাকি তবু চৌ দেয়াল
ধসে যেতে যেতে সবকটি দেয়াল, বিরান দৃষ্টির চারিধার
হায়! কোথায় ডাকে আমায়, ধমকের সুরে বিবাগি এ হাওয়া,
দেখো, অমন হলে আমার যে আর কোথাও থাকে না যাবার
ফেটে পড়ছে প্রবল উপহাসে একেকটি চোখ
নিজেকে লুকোতে লুকোতে,
হারিয়ে ফেলেছি কবে যে আমায়,
দোর নেই, ঘর নেই-
টালমাটাল বিধ্বস্ত আমি- সজল চোখে বিকেলের
কাছে ফিরি বারবার
সূর্যমুখে লেখে বিষন্নতা, আসে কতো শত রাত
রাতদেশে ঘুরে ঘুরে থমকে দাঁড়ায় আমারই ছায়া
একদিন কায়ার মায়া সাঙ্গ হলে থাকবে না তো ছায়ারূপ
অন্ধকারে, শূন্যতায় দেখো বিলীন হয়ে যাচ্ছে
নিমিষেই আমারই ঘর

 

 

জলের চোখ

বশির আহমেদ

পথ পথের মতো
আমি পথিক, সময় থিতু হয়ে যায়।
ছেঁড়া জুতা পথের দুরত্ব মাপে-
ধুলোবালি সব।

মানুষ মূলত একা, শৌখিন ঘর,
যাপনের ভরসা ক্ষীণ, দরিয়ায় উঠে পাল
নীল তিমি ভেসে যায়
চোখ নেই জলের।