স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করতে হবে পশুর বাজার

297
করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা বিষয়ক বিশেষ সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন
সমন্বয় সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেছেন, আর কিছুদিন পরেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কুরবানির প্রত্যেক গবাদি পশুর বাজার পরিচালনা করতে হবে।

গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন আয়োজিত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা বিষয়ক ৬ষ্ঠ বিশেষ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, গবাদি পশুর বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা পথ রাখতে হবে। মাস্ক পরিধান ছাড়া বাজারে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সকলের মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। এটা অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজার ইজারাদার কর্তৃক পর্যাপ্ত মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুদ রাখতে হবে। জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন ও ব্যাংক বুথ স্থাপনসহ মলম পার্টি, থুথু পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এবং ছিনতাইকারী রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা এবছর কোরবানির গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় করতে বাজারে না গেলে ভালো হয়।

কেপিআই’র আশপাশে গরুর হাট বসানো যাবে না। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট রোধে প্রশাসন তৎপর থাকার পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক হতে হবে।

করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রাক্কালে রোগীদের জন্য চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানোলা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদির সংকট ছিল। বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোন কিছুর অভাব নেই। করোনা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে এখনো অনেক সিট খালি রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছেন বলেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এসেছে। একসময় করোনার নমুনা টেস্টের রিপোর্ট পেতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতো, এখন দ্রুততার সাথে মিলছে রিপোর্ট। যাদের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও কিডনিজনিত রোগ আছে তাদের বেশি সচেতন থাকা দরকার। কোভিড-১৯ ভাইরাস ফুসফুসে পৌঁছার আগেই শেষ করে দিতে হবে। এটি জটিল হয়ে গেলে মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় আর ফিরে আসে না।

বিদেশগামীদের কোভিড-১৯ টেস্ট বিষয়ে সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের লাখ লাখ মানুষ বিদেশে থাকেন। যারা ইতোপূর্বে দেশে এসেছেন তাদের বিদেশ যেতে হলে কোভিড-১৯ টেস্ট নেগেটিভ বাধ্যতামূলক। ঈদের পরেও অনেক লোক বিদেশে যাবেন। এ জন্য তারা করোনা টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট সেন্টারে ভিড় করছেন। তাদেরকে কোন ধরনের হয়রানি করা যাবে না, নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে হবে। কোন বিদেশ যাত্রী যাতে বিমানবন্দর থেকে ফিরে না আসে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। অনলাইনে রিপোর্ট দিতে গিয়ে সার্ভারে ত্রুটি দেখালে প্রয়োজনে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তা সমন্বয় করতে হবে। এ ব্যাপারে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদেরকে আরো আন্তরিক হতে হবে। সব ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় প্রাইভেট চেম্বার খোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ মোকাবিলা বিষয়ক সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি, জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. শামীম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিআইটিআইডি’র পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুল হক খান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লিয়াকত হোসেন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি