ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

নাদান প্রেমিক

জিন্নাহ চৌধুরী

নাদান প্রেমিক আমি,
এক দুধসাদা জলপ্রপাতের শব্দে ভিজি।
গহীন অরণ্যে চর্যাপদের হরিণীরা জানে না,
কোন লতা কখন খুলে দেয় নীল সন্ধ্যার গিঁট,
আমি শুধু পাতার ভেতর
এক অনুচ্চারিত সুগন্ধের পিছু হাটি।

---------

উদাসীন নারী,
তোমার ভূগোলে এত কুয়াশা যে
নক্ষত্রও পথ ভুলে যায়,
আমি অন্ধকারকে নদী ভেবে
বারবার সাঁতার কাটি।

যাকে অবহেলায় ফেলে রাখো,
সে-ই একদিন পদ্মাবতীর মতো
তোমার পায়ের নিচে লিখে যায় কিংবদন্তি।
প্রত্যাখ্যানও কখনো কখনো
সবচেয়ে দীর্ঘতম প্রেমপত্র।

যদি এক ফোঁটা চুম্বন ঝরে,
কোনো দেবতার নয়
জেগে উঠবে ঘুমিয়ে থাকা কস্তুরির গন্ধ,
আর আমি
একটি অসমাপ্ত কবিতার ভেতর
শত জন্ম ধরে
তোমাকেই খুঁজে যাব।

 

সময়

তাপস চক্রবর্তী

আপনি বললেন, সময়কে ধরতে…
সময় মানেই তো ঘড়ির কাঁটা- টিক্ টিক্ শব্দ উচ্ছ্বাস
রাত-বিরেতে
সম্পর্কের টানাটানি…

তবুও আমিও ধরলাম
আঁকড়ে
সময়ের শরীরকে।

তারপর
একে একে আলাদা করলাম-
রক্ত
হৃদপিণ্ড
আর আর…

কী বীভৎস-
কলমের সাথে তলোয়ারের মিত্রতা হচ্ছে সময়ের
মানুষের ভিতরে জন্ম নিচ্ছে, ভীষণ একা হওয়ার মন্ত্র
তারপর একে-একে নীড়ে ফেরার পথ
কেমন জানি অন্ধকারে মিলে যাচ্ছে
চারিদিকে শুধু যুদ্ধ যুদ্ধ আর অস্ত্রের কেনাবেচা…

হায় ঈশ্বর! এবার বাঁচাও সময়কে- বাঁচাও বাঁচাও।

 

 

একটু ভালো থাকতে চাই

বাদল রহমান

ভালো থাকার জন্য অস্তিত্ব রক্ষাকারী মানুষগুলোর আজ জরুরি প্রয়োজন…

ইবলিশি শির উঁচু করে রক্তপিপাসুরা দম্ভে ঘুরে বেরাচ্ছে সুজলা বাংলায়। জায়নবাদীরা বাসুকি নৃত্য করে খুনের উৎসবে।
রক্তের বিনিময়ে পাওয়া অর্জন আজ সৌরভহারা।
প্রতিদিন এখানে নামাচ্ছে সন্ত্রাস।
হে বীর ঈশা খাঁ!
আর একটিবারের জন্য খাপখোলা তরবারি হয়ে কি আসতে পারেন না? আমরা ভালো নেই। আমরা একটু ভালো থাকতে চাই।

 

 

অবচেতন

মাসুদ চয়ন

অবচেতন বেঁচে থাকার অরণ্য, স্তব্ধ রঙধনুময়
যে পথ দেখায়, সে পথে ঝিঁঝিডাকে, সেই ডাকে মুঠোভর্তি গন্ধ ওড়ে
হয়ে ওঠে তুমুল মতান্তরী শৈশব-মুকুল।
অবচেতন আঁধার নিঃশব্দ জোয়ারে হাঁটছে,
প্রশান্তিকর উপজীব্য রেণু তার চোখে।
শান্ত থাকার শিল্পকলায় রপ্ত নিশি গদ্য।
অবচেতনের প্রলাপ-লেপন ঘন হচ্ছে।
প্রলাপের ভাষা সমুদ্র হাতড়িয়ে ছুটে চলছেই।
সৃষ্টির পরিসর তোমাকে খুঁজে পেতে চাইছে;
প্রত্যাশায় দোদুল্যমান কালো রাত, আলোকশিখা নিভে গেল বলে।

 

 

অ্যাসিড রোমান্স

ইফতেখার রবিন

যারা বৃষ্টিকে ভেবেছিল নিরাময়,
তারা এখন ছাতায় জমে থাকা কুয়াশা বিক্রি করে।
পোস্ট মডার্ন প্রেমের বাজারে
তোমার ঠোঁটের ছায়াও কি নকল হয়ে গেছে?

শহরের গলিতে, নিয়নের নিচে,
আমি খুঁজেছি সেই পুরোনো হাত
যে হাত একদিন বাতাসে নাম লিখেছিল,
আজ ফেসবুকের রিঅ্যাক্টে শুধু ধূসর হয়ে যায়।

আর তুমি,
যে নোনাজল চোখে আগুন রেখেছিলে,
বলতো, এখনো কি তুমিও
চাঁদের পাড়ায় টক্সিক চা খাও,
আমার পুরোনো নামের কাপে?