মতামত সম্পাদকীয়

মশা বাড়ছে সঙ্গে ডেঙ্গুও বাড়ছে : কর্তৃপক্ষ কী ভাবছে

গতকাল ২০ আগস্ট ছিল বিশ্ব মশা দিবস। দিবসকে কেন্দ্র করে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের কাছে মশা ও ডেঙ্গুর উপদ্রব এক নিরন্তর আতঙ্কের নাম। বর্ষার তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নগরজুড়ে মশার লার্ভা ও প্রজননক্ষেত্র আশঙ্কাজনক হারে বাড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রতি চিহ্নিত উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান নগরবাসীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব আলোচনায় বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা একটি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন— মশার প্রজনন চক্র ভেঙে দেওয়া ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। ‘মশার প্রজনন চক্র ভেঙে দিন, প্রতিটি জীবন সুরক্ষিত রাখুন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয়দের নিজস্ব প্রাঙ্গণ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়। তবে আলোচনার পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত ৮টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে।
চসিকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও নগরবাসীর মনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন থেকেই যায়। অতীতে দেখা গেছে, কেবল কোনো দিবস কিংবা পরিস্থিতি তীব্র হলে এমন ক্রাশ প্রোগ্রাম বা ফগার মেশিনের ধোঁয়া ছিটানোর লোকদেখানো দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। নিয়মিত ড্রেন-নালা পরিষ্কার না করা, জমে থাকা পানি সরাতে ব্যর্থতা এবং সঠিক কীটতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ছাড়াই অপ্রাসঙ্গিক ওষুধ ব্যবহারের কারণে নগরবাসী এসবের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাননি। ফলস্বরূপ প্রতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিলে সাধারণ মানুষকে মাশুল দিতে হচ্ছে।
আসন্ন দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার রূপ নিচ্ছে। এই সংকটময় সময়ে চসিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কেবল মৌসুমি পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ওয়ার্ডভিত্তিক নিখুঁত মনিটরিং, লার্ভিসাইডের কার্যকর প্রয়োগ এবং হটস্পটগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত রক্তের প্লাটিলেট ও চিকিৎসাসেবা প্রস্তুত রাখা জরুরি।
মশা নিয়ন্ত্রণে কেবল সিটি করপোরেশনের ওপর দায় না চাপিয়ে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে, কারণ গৃহস্থালি বা ছাদের জমে থাকা পানি এডিসের প্রধান উৎস। তবে মূল নেতৃত্ব দিতে হবে চসিককেই। জোড়াতালি ও সাময়িক লোকদেখানো কর্মসূচি পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নই পারে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে। নগরবাসীর জীবনের নিরাপত্তা বিধান করা কোনো দয়া বা সুবিধা দেওয়া নয়, এটি চসিকের প্রাথমিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

---------