বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২৬
ফিচার শিল্প-সাহিত্য

আলী প্রয়াসের গুচ্ছ কবিতা

প্রত্নক্ষত

এ দেশে ব্যান্ডেজেরও নাগরিকত্ব আছে।

রক্ত শুকিয়ে গেলে
তাকে আর্কাইভে রাখা হয়।

---------

ইতিহাসের সেলাইকল
রাতভর কাপড়ের বদলে
মানুষের উচ্চারণ জোড়া লাগায়।

ভোর হলে
প্রতিটি দাগ
নিজের নাম বদলে ফেলে।

 

চাবি

হারিয়ে যাওয়া চাবিগুলো
রাতে একসঙ্গে জেগে ওঠে।

ড্রয়ারের অন্ধকারে
তারা আলোচনা করে
কোন দরজার ওপারে
এখনও আলো জ্বলছে।

আমি কান পাতলে
শুনি ধাতব ফিসফাস।

মনে হয়
প্রতিটি চাবির ভেতরে
একটি করে ঘর ঘুমিয়ে আছে।

 

রাত

রাত যখন গভীর হয়,
ঘরের দেয়ালগুলো একটু কাছে আসে।

বইয়ের পাতায় ঘুম নেমে থাকে,
টেবিলের ওপর অর্ধেক লেখা একটি বাক্য।

দূরে কুকুর ডাকে।
আর আমি ভাবিÑ
যে কথাগুলো বলা হলো না,
তারাও কি ঘুমিয়ে পড়ে?

 

মানচিত্র

টেবিলের ওপর ছড়ানো মানচিত্রে
কোনো দেশ নেই।

কেবল কয়েকটি ভাঁজ,
কিছু ভুলে যাওয়া রাস্তা,
আর একফোঁটা চায়ের দাগ
সমুদ্রের মতো বড় হয়ে আছে।

আঙুল রাখতেই
একটি শহর সরে গেল।

তারপর
দীর্ঘক্ষণ শুনলাম
কাগজের ভেতর দিয়ে
হেঁটে যাচ্ছে মানুষের পদশব্দ।

 

গাছ

বাড়ির পেছনের আমগাছটি
এ বছরও ফল দিয়েছে।

কেউ আর দুপুরবেলা
তার ছায়ায় বসে গল্প করে না।

তবু সে দাঁড়িয়ে থাকে,
পাতায় পাতায় রোদ জমায়।

কিছু কিছু ভালোবাসা বোধহয়
এভাবেই বৃক্ষ হয়ে যায়।

 

পরাগরাষ্ট্র

ঝড়ের পর
গাছেরা নিজেদের গণনা করে না।

উড়ে যাওয়া পাতাগুলো
অন্য জেলার বাতাসে
ভোটার তালিকা খোঁজে।

একটি শিশু
মাটিতে বৃত্ত আঁকে।

তার ভেতরে
প্রবেশ করতে পারে না
কোনো সীমান্ত।

সন্ধ্যা হলে
পাখিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভুলে গিয়ে
একই আকাশে ফিরে আসে।