আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, সাত জনের মরদেহ উদ্ধার

সুপ্রভাত ডেস্ক »

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া ভয়াবহ এক আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও নিখোঁজ আছেন বহু সংখ্যক।

---------

তিব্বত থেকে আসা ঢলের প্রভাবে বুধবার সকালের দিকে রাসুয়া জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভোতিকোশি নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তার জেরেই ঘটেছে এই আকস্মিক বন্যা।

এতে রাসুয়া জেলার সিয়াফ্রুবেসি, বেত্রবতী, মাইলুং, সাল্লেতার, শান্তিবাজার , পাইরিবেসি, খালতিবাস্তি, সোলে, ত্রিশুলি এবং বাত্তার জেলার শত শত ঘরবাড়ি ভেসে যায়, নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় রাস্তাঘাট, উপড়ে যায় বিদ্যুতের খুঁটি। সেই সঙ্গে নিখোঁজ হন বহুসংখ্যক মানুষ।

নিখোঁজদের মধ্যে সীমান্তরক্ষী পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। নেপলের উত্তরাঞ্চলে চীনের অধিকৃত প্রদেশ তীব্বতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। রাসুয়াও সীমান্তবর্তী জেলা। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের তিমুর এলাকায় নেপালের সীমান্তরক্ষী পুলিশ বাহিনীর ৮ জন সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। সকাল ৯ টার দিকে আকস্মিক বন্যা তিমুরে হানা দেয় বলে জানিয়েছেন সীমান্ত পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে।

বন্যায় নিখোঁজদের অনুসন্ধানে নেপালের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং নেপালি পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী বাহিনী গঠন করা হয়েছে, নিয়োগ করা হয়েছে ৮টি হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

বুধবার বিকেল নাগাদ রাসুয়ার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত এবং ৭ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে নেপালভিত্তিক দৈনিক কাঠামান্ডু পোস্ট।

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ভোতিকোশি নদীর তিব্বতে একটি ভূমিধসের কারণে ভোতিকোশি নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেই চাপ এবং তার সঙ্গে পাহাড়ি ঢল যুক্ত হওয়ায় ঘটেছে এই আকস্মিক বন্যা।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র : কাঠামান্ডু পোস্ট