এ মুহূর্তের সংবাদ

অর্জনের গৌরব ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

জুলাই অভ্যুত্থান দিবস

৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। স্বৈরাচার ও নিপীড়নের শৃঙ্খল ভেঙে ছাত্র-জনতার অদম্য সাহসে অর্জিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ কেবল একটি তারিখের নাম নয়; এটি গণআকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। রক্তঝরা দিনগুলোর মধ্য দিয়ে দেশের তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে, সাধারণ মানুষের ঐক্য ও মেধার সামনে কোনো দুঃশাসনই টিকতে পারে না। আজকের এই বিশেষ দিনে অভ্যুত্থানের গুরুত্ব, সাফল্য এবং আগামীর দিনগুলোতে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার পথরেখা উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।
এই অভ্যুত্থানের মূল সাফল্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন বা ব্যবস্থার পালাবদল নয়। নাগরিক অধিকার পুনর্ব্যক্ত হওয়াই জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তবে অভ্যুত্থানের আসল পরীক্ষা শুরু হয় এর সাফল্যের পর। রাজপথের লড়াই সাময়িক পরিবর্তন আনলেও একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কার দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে শত শত তরুণ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ।
এখন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিরতরে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষার প্রথম শর্ত। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরুত্থান না ঘটে, সে জন্য সাংবিধানিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার সাধন করা আবশ্যক। রাজনৈতিক ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে উদীয়মান তরুণ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিতে হবে, যারা মেধা ও সততা দিয়ে আগামীর পথ দেখাবে। দুর্নীতির বিস্তার রোধ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং সুযোগের সমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে, বিজয়ের চেয়ে বিজয় ধরে রাখা কঠিন। শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, বরং তা যেন প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতের চালিকাশক্তি হয়। বিভেদ ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে পেছনে ফেলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই হোক ৫ আগস্টের দীপ্ত অঙ্গীকার।

---------