সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস-সংকটের কারণে দেশের প্রধান প্রধান নিত্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনকারী শিল্পগোষ্ঠীগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে সীকম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেল্টা এগ্রোফুডের সয়াবিন বীজ মাড়াই ও ভোজ্যতেল প্রক্রিয়াজাতকরণের তিনটি কারখানা কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। একইভাবে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে সিটি গ্রুপের কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না এবং নাবিল গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পের এই স্থবিরতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।
যেসব কারখানা বিকল্প হিসেবে এলপিজি কিংবা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে, সেখানে উৎপাদন খরচ একলাফে অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না, অন্যদিকে পণ্যের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গিয়ে চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে ভোক্তার পকেটে। বর্তমানে কারখানাগুলোর গুদামে জমাকৃত পণ্যের ওপর নির্ভর করে বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা কোনোক্রমে টিকে রয়েছে। কিন্তু শিল্পপতি ও বাজার বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী এক বা দুই দিনের গ্যাস সংকট গুদামের সাময়িক মজুত দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাজারে বড় ধরনের নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
এই পরিস্থিতিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মন্তব্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্ববহ। বর্তমানে যেখানে গ্যাসের সামগ্রিক সংকট রয়েছে, সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী শিল্প খাতগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা জরুরি। খাদ্য নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে অন্য খাত থেকে গ্যাস ডাইভার্ট করে হলেও নিত্যপণ্যের কারখানাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ স্বাভাবিক করা উচিত।
পাশাপাশি বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে এই কাঁচামাল ও উৎপাদন সংকটের সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সরকারের কঠোর ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকদের সাথে সরকারের নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বয় জরুরি। সরকারের উচিত হবে এই গ্যাস-সংকট কাটানোর জন্য তারা কী কী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে ঠিক কতদিন সময় লাগবেত্মসে সংক্রান্ত বস্তুনিষ্ঠ তথ্য স্পষ্ট ও প্রকাশ্য রাখা। তথ্যের স্বচ্ছতা একদিকে যেমন বাজারে গুজবের সুযোগ বন্ধ করবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের অযথা আতঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করবে।
সংকট ঘনীভূত হয়ে বাজারব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার আগেই সরকারকে দ্রুত সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি ।
এ মুহূর্তের সংবাদ

















































