ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

বৃষ্টি

এ কে আজাদ

বৃষ্টি পড়ে পটপটাপট মেঘের দেশে ঝুম,
টিনের চালে ঝমঝমাঝম ঘাসের ঠোঁটে চুম।
বৃষ্টি খেলে দিঘির ভেতর, নদী বিলে খালে,
বৃষ্টি নাচে টুপুর টুপুর বৃষ্টি ঝুমুর তালে-
গাছের পাতায় টুপটুপাটুপ কদম কেয়ার ডালে,
সকাল দুপুর শনশনাশন শুকনো খড়ের চালে।
বৃষ্টি ভেজা মাঠের জমিন, কৃষক চালায় হাল,
জল থৈ থৈ নদীর জলে জেলে ফেলে জাল।
শীতল হাওয়া ধানের মাঠে বৃষ্টি করে খেলা,
অলস দুপুর, চালের ভাজা কুড়মুড়ে যায় বেলা।
ঝিলের জলে শাপলা হাসে অবাক চেয়ে রই,
পানকৌড়ির জলকেলিতে বালিহাঁসে সই।
ঝুমঝুমাঝুম বৃষ্টি নূপুর সুর তোলে যে মনে,
ইচ্ছে করে সাঁতার খেলি পাতিহাঁসের সনে।
বৃষ্টি খোলে স্মৃতির পাতা – কাদা পানির গাঁও,
বুকের ভেতর মায়া হরিণ ছন্দে নাচায় পা-ও।

---------

 

মনটা আমার

জনি সিদ্দিক

এই গরমে মনটা আমার
বসে নাতো ঘরে,
আম লিচু জাম কাঁঠাল দেখে
জিভে পানি ঝরে।

সূয্যি মামার কড়া তাপে
মন যে উড়ু উড়ু,
বৈশাখি ঝড় উঠলে এ বুক
কাঁপে দুরুদুরু!

ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে
পাখির মতো ওড়ে,
দূর আকাশে বেড়াই ভেসে
মেঘের ভেলায় চড়ে।

ভর দুপুরে তপ্ত রোদে
শীতল হাওয়া খোঁজে,
একটুখানি বৃষ্টি হলে
আরামে চোখ বোজে।

ক্লান্ত দেহ শান্ত হতে
ছোটে নদীর তীরে,
সকাল-সন্ধ্যা ডুব সাঁতারে
জুড়ায় শরীর ধীরে।

 

শরৎ এলো ঘোড়ায় চড়ে

মোশতাক আহমেদ

হাটের মানুষ মাঠের মানুষ, মানুষ হাওর বিলে
এই শরতে মিলছে মেলা দারুণ অন্ত্যমিলে
কাদা-জলে খাচ্ছে খাবার বক সরালি চিলে
পানকৌড়ি উদরে দেয় আস্ত কাতল গিলে।

নদীর ধারে কাশবাগানে সফেদ ফুলের বাহার
হাওয়ায় ভাসে দূর আকাশে পেঁজা মেঘের পাহাড়।
শিউলি ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে চাঙা সকাল দুপুর
ভাদ্র মাসে বৃষ্টি আসে হঠৎ ঝাপুর ঝুপুর
আলতারাঙা পায়ে হুমুর –
বাজে সোনার নূপুর।

পাখির গানে জাগায় প্রাণে চোখের তারায় আশা
সোঁদা মাটির সুবাস মাখে মায়ের ভালোবাসা।
মাঠ ভরে যায় সবজি বাগান জাংলা ভরা লাউ
উদাস বাউল গানের সুরে কোন দেশেতে যাও?

জারুলতলা গল্পবুড়ো সময় কাটায় বসে
সুখ-দুঃখের হিসেব করে ব্যথার অংক কষে।

জাহাজঘাটে কেউ আসে না শুকনো নদীর জল
কান্দে বসে ঘাটের মাঝি জীবনটা নিস্ফল।
বনে বনে ফুলও ফোটে, পাখিরাও গান গায়
শরৎ এলো ঘোড়ায় চড়ে তেপান্তরের গাঁয়।

 

 

লাটিম

হাফিয রেদওয়ান

বাড়ির ওঠোন সমান দেখে
খেলবে লাটিম খোকা
ছোটো বড়ো বৃত্ত টেনে
করছে আকাঁজোকা।

লাটিম গায়ে লেত্তি পেঁচে
টান দিলো যেই জোরে
বাধ ভাঙা অই খোকার খুশি
সাথে লাটিম ঘোরে।

লাটিম ঘোরে হেলেদুলে
মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দম ধরেছে গান ধরেছে
আর পড়ে না শুয়ে।

কখনো বা হাতের তলায়
থির থির থির আলে
গুন গুন গুন গান ধরেছে
ছন্দ তালে তালে।

 

চাঁদের দেশে

জাহেদ কায়সার

সোনাঝরা ছোট্ট সোনা,
কোথায় যাবে বলো?
ওই যে দেখো চাঁদ উঠেছে,
চাঁদের দেশে চলো।
বাসে চড়ে, ট্রেনে চড়ে
চাঁদে কি আর যাওয়া?
রকেট চেপে ছুটব আমরা,
স্বপ্ন হবে পাওয়া।
পৃথিবীটা দেখব সবাই
আকাশ ভ্রমন শেষে,
নদী-পাহাড়, মাঠ-ঘাট সব
হারাবে দূর দেশে।
তারার মেলা ঝলমলে সব
থাকবে চারিপাশে,
চাঁদের বুকে লুকোচুরি
খেলব মনের আশে।

 

শরতের এতো শোভা

শাহীন খান

শরতের এতো শোভা দেখে ভালো লাগে
থেকে থেকে এই বুকে কাব্যেরা জাগে!

পাল তুলে গায় মাঝি ফোটে কতো কাশ
দিঘি জলে খেলা করে পানকৌড়ি, হাঁস।

মেঘমালা উড়ে যায় সূর্যটা হাসে
মন আমার পুলকিত ফুলেদের বাসে!

পাখিরা খেলা করে সুরে করে গান
প্রকৃতির লীলা দেখে ভরে যায় প্রাণ!