বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

সুখের আবাহন

মাসুম মোরশেদ

বইয়ের ভাঁজে ছিল গোলাপের কুঁড়ি
প্রজাপতি হয়ে ডানা মেলে ওড়ে
খাতার পাতায় যার ছবি ছিল আঁকা
জ্যান্ত মানুষ বুকের ভেতর খেলে।

---------

কখনো সে পাখি হয় আকাশের বুকে
বুক ভরা দম নিয়ে ফিরে ফিরে আসে
অলিগলি খাঁজে-ভাঁজে হাতরায় সুখ
চিরজনমের প্রেম ব্যাকুলতা বাড়ে।

দিন যায় আসে জরা কেটে যায়
যাতায়াত বাড়ে এক পা দুই পা করে
মনে তোলপাড় তুলে কেন যেতে চাও
আর না হয় না গেলে; থেকে যাও বুকে।

কাছাকাছি থেকে ভালবাসাবাসি হয়
ঠোঁটে বসন্ত আসে সোহাগী পরশ
আদরে আদরে নদী ওঠে ফুলেফেঁপে
মধুমোহনা মিলন যেন সার্থক হয়।

 

 

অন্ধরা নাচছে

জাকিয়া রহমান

আঁধার নেমেছে আঁধার!
অন্ধরা নাচছে আর নাচছে মৃত মানুষের ভাগাড়ে,
বেদম আনন্দে হাড়ের পাহাড়ের ওপর নাচছে।
তারা ভেবে বসে আছে,
এই হড় হড় হড় মর মর শব্দ বুঝি মাটির নীচে,
আসছে কোনো হীরে কি সোনার খনি থেকে।
লোভে তাদের আনন্দ আরও বাড়ে
আর হড় হড় হড় মর মর শব্দ আরও বিকট,
মৃত মানুষের ভাগাড়ে।

 

ওরা আসবে

মিলটন রহমান

একটা লাশ বুক টান টান করে দাঁড়িয়েছে
আকাশ ছাপিয়ে নেমেছে ঝড়ো বৃষ্টি
কে কাঁদছে আকাশ নাকি লাশ?
তুমুল বৃষ্টিতে উৎসুক জনতার চোখে
ধরা দিলো এক আশ্চর্য বিস্ময়!
লাশের চোখ দাউ দাউ করে জ্বলছে
বৃষ্টির ফোঁটা সে আগুন নেভাতে তুমুল ঝরছে
বৃষ্টির জল লাশের শরীর বেয়ে রক্ত হয়ে ঝরছে
ঘাসের আহ্বানে সবুজ আর লালে গলাগলি করে
যেনো গেয়ে উঠছে-
সব ক’টা জানালা খুলে দাওনা… ওরা আসবে…

 

আরোবি-এক

ইফতেখার রবিন

এই রাতে তোমার ছায়া উড়ে যায় নীল করবীর গন্ধে,
এই রাতে নক্ষত্রেরা পরিধান করে নির্বাসনের শোক।

তোমার অনিদ্রার দীর্ঘ শ্বাস
নেমে আসে আমার অস্থিমজ্জায়-
আমি অসীম নিঃশব্দতায়
দেখে যাই তোমার অন্তর্লীন মুখ।

হঠাৎ কেঁপে ওঠে
শিমুলের রক্তাভ নৈঃশব্দ্য-
কার অদৃশ্য বাঁশি
এত দূরের ভিতরেও রক্তের মতো বাজে?

খাঁ খাঁ করে প্রাচীন প্রাসাদ।
তোরণ।
পরিখা।
পরাজিত প্রেমের অনুলিখিত মহাকাব্য।

আজ শুধু এই রাত্রিটুকুই জানে,
অভ্রভেদী এই নৈশযাপনই জানে-

আমরা দুজন
ধূলিরও অধিক ক্ষীণ এক আলোকরেণু ধরে
মৃত্যুরও ওপারে
পা বাড়িয়েছি।

 

পাঁচটি হাইকু

আসহাবে কাহাফ

চাটুকার

সুযোগ যদি পায়,
রাজার যত গুণ-গান;
সম্মুখে সে গায়।

রাজনীতিবিদ

দাও হে খোদা দাও
যত পারো হাত খুলে;
আমার ভাঙা নাও!

সতর্কবার্তা

উত্তপ্ত আগুন,
যদি হয় যৌবনের প্রেম-
সে পোড়ায় দ্বিগুণ।

পরকিয়া

সুহাসিনী এক-
ছোবলে হয়েছি নীল;
ওরে তোরা দেখ!

সঙ্গম

জোছনা খসে আজ;
তিমির রাত্রির বুক ঘেষে-
নববধূ সাজ।