উন্নয়ন

অ্যামেজিং চট্টগ্রাম—ভবিষ্যতের চট্টগ্রাম গড়তে সিপিডিএলের নতুন উদ্যোগ

সুপ্রভাত ডেস্ক >>

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও গ্লোবাল সিটির দিকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের নতুন দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কানেক্টিং দ্য ফিউচার অব চট্টগ্রাম’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

---------

গতকাল সন্ধ্যায় সিপিডিএলের গ্যালেরিয়া অ্যাম্বিয়েন্স হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরায়ন ও উন্নয়নের বিষয়ে বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি আরও আধুনিক, প্রাণবন্ত ও আন্তর্জাতিক মানের নগরী গড়ে তোলার বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

সিপিডিএল পরিবারের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন বলেন, “একটি গ্লোবাল সিটি শুধু উন্নত অবকাঠামোর মাধ্যমে গড়ে ওঠে না; এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের সেবা, আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ, আকর্ষণীয় গন্তব্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং মানুষের জন্য উন্নত নগর অভিজ্ঞতা।”

তিনি বলেন, “সিপিডিএলের বিভিন্ন উদ্যোগ চট্টগ্রামের বর্তমান সম্ভাবনাকে ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করে একটি আধুনিক ও গ্লোবাল সিটিতে রূপান্তরের এই যাত্রায় সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”

অনুষ্ঠানে সিপিডিএলের চিফ স্ট্র্যাটেজিক অফিসার জিয়াউল হক সিপিডিএলের বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সিপিডিএল। সিপিডিএলের ‘অ্যামেজিং চট্টগ্রাম’ ভাবনার মূল লক্ষ্য হলো—চট্টগ্রামের বিদ্যমান সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও গ্লোবাল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পথে অবদান রাখা।

এই বৃহত্তর ভাবনার অংশ হিসেবে সিপিডিএলের অন্যতম উদ্যোগ ‘মল অব চট্টগ্রাম’। চট্টগ্রামের প্রথম ডেস্টিনেশন মল হিসেবে পরিকল্পিত এ প্রকল্পটি শুধু কেনাকাটার স্থান নয়; বরং শপিং, ডাইনিং, বিনোদন, অবসর ও পারিবারিক সময় কাটানোর সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রা ও নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে ‘মল অব চট্টগ্রাম’ নগরীর বাণিজ্যিক ও লাইফস্টাইল পরিসরে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করছে ‘গ্যালেরিয়া—ইউর সেকেন্ড হোম’। ফয়’স লেক রোডে গড়ে ওঠা এই প্রিমিয়াম হসপিটালিটি ডেস্টিনেশন আধুনিক আতিথেয়তা ও জীবনযাপনের নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

আবাসন, রেস্টুরেন্ট, সুইমিং পুল, জিম, ব্যাংকুয়েট হলসহ বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা গ্যালেরিয়া চট্টগ্রামের হসপিটালিটি খাতে নতুন অভিজ্ঞতা ও মানদণ্ড তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী উদ্যোগ ও ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প। এসব উদ্যোগ শুধু নগরীর অবকাঠামোকে সমৃদ্ধ করবে না; মানুষের জীবনযাপন, অভিজ্ঞতা এবং চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিচিতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, “সিপিডিএল চট্টগ্রামে যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি আশা করি তারা সফল হবে। তবে চট্টগ্রাম সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে আছে। চট্টগ্রামে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু তা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে হয়েছে। চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে সবার সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, স্থপতি আশিক ইমরান এবং বারকোড গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।