সরোজ আহমেদ »
ছোট্ট মেয়ে তাহি। থাকে একটি সুন্দর গ্রামে। যেখানে আছে সবুজ গাছপালা, পাখির ডাক আর খোলা মাঠ। তাহির সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু তার আদরের বিড়াল পুষি। পুষির গা সাদা-কালো, আর তার চোখ দুটো টলটলে সবুজ।
তাহি আর পুষি যেন একে অপরের ছায়া। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তাহি বলে, “পুষি, উঠো! আজ আমরা নতুন খেলা খেলব।” পুষি লেজ নাড়িয়ে “মিউ” করে সাড়া দেয়।
একদিন তারা উঠোনে লুকোচুরি খেলছিল। তাহি গুনছিল, “এক- দুই- তিন”। আর পুষি দৌঁড়ে গিয়ে লুকিয়ে পড়ল কলাগাছের পেছনে। তাহি অনেক খুঁজেও তাকে পেল না। একটুপর পুষি নিজেই “মিউ” করে বেরিয়ে এলো। তাহি হেসে বলল, “তুমি তো বেশ চালাক হয়ে গেছ পুষি!”
আরেকদিন তাহি পুষিকে নিয়ে পুকুরপাড়ে গেল। সেখানে তারা দেখল ছোট ছোট মাছ পানিতে লাফাচ্ছে। পুষি খুব কৌতূহলী হয়ে পানির দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ সে পানিতে থাবা দিতে গেল- ছপাং! পানি ছিটকে তাহির গায়ে পড়ল। তাহি হেসে গড়িয়ে পড়ল, “এই পুষি! তুমি তো খুব দুষ্টু!”
তবে একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাহি দেখল, পুষি নেই। সে ভাবল, হয়তো উঠোনেই আছে। কিন্তু না- উঠোনে নেই, রান্নাঘরে নেই, এমনকি তার প্রিয় ঝুড়ির মধ্যেও নেই।
তাহির মনটা কেমন করে উঠল। সে ডেকে উঠল, “পুষি! পুষি! তুমি কোথায়?” কোনো উত্তর নেই।
তাহি দৌঁড়ে বাগানে গেল। তারপর পুকুরের কাছে গেল। মাঠেও খুঁজল। কোথাও পেল না। তার চোখে পানি এসে গেল। ভাবল, “পুষি কি আমাকে ছেড়ে চলে গেল?”
ঠিক তখনই সে ক্ষীণ একটা শব্দ শুনতে পেল- “মিউ-মিউ”। শব্দটা আসছে পুরনো আমগাছের দিক থেকে। তাহি দৌঁড়ে গেল। গিয়ে দেখে- পুষি গাছের বেশ উঁচু ডালে আটকে আছে! সে নামতে পারছে না, আর ভয়ে কাঁপছে।
তাহি ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু সাহস করে বাড়িতে দৌঁড়ে গিয়ে বাবাকে ডাকল। “বাবা, পুষি গাছে উঠে আটকে গেছে!”
তাহির বাবা বললেন, “বলিস কী! চল- চল, আমরা ওকে নামিয়ে আনি।” বাবা গাছে উঠে ধীরে ধীরে পুষির কাছে গেলেন। পুষি প্রথমে ভয় পেলেও বাবার স্নেহের ছোঁয়া পেয়ে শান্ত হলো। অবশেষে পুষিকে কোলে নিয়ে বাবা নিচে নেমে এলেন।
পুষি নিচে নামতেই সোজা দৌঁড়ে তাহির কোলে লাফ দিল। তাহি তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল, “আমি ভেবেছিলাম তুমি আর ফিরে আসবে না!”
পুষি আলতো করে “মিউ” করে তাহির গালে মুখ ঘষল, যেন বলছে- “আমি তো তোমার কাছেই আছি।”
সেদিন বিকেলে তাহি পুষিকে নিয়ে বসে ছিল আমগাছের নিচে। সে বলল, “পুষি, আমরা খেলব, দৌঁড়াব, কিন্তু খুব সাবধানে- ঠিক আছে?” পুষি লেজ নাড়িয়ে রাজি হলো।
তারপর থেকে তাহি আর পুষি প্রতিদিন নতুন নতুন খেলা খুঁজে বের করত- কখনো ফুল গোনা, কখনো পাখি দেখা, কখনো রোদে বসে গল্প করা। আর তারা কখনো একে অপরকে চোখের আড়াল করত না।
তাদের বন্ধুত্ব দিন দিন আরও গভীর হলো- ভালোবাসা, বিশ্বাস আর যত্নে ভরা এক সুন্দর বন্ধুত্ব।




















































