সুপ্রভাত ডেস্ক »
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেছেন, জোয়ার ছাড়া নদী যেমন মৃত, তেমনি সংস্কৃতি ছাড়া মানুষও মৃত। নাট্যচর্চা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজীবনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন, কারণ এর মাধ্যমে তারা আত্মবিশ্বাসী, প্রজ্ঞাবান এবং সমাজসচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন আযোজিত মাসব্যাপী নাট্য কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান এবং ঢাকা থেকে আগত নাট্য কর্মশালা পরিচালনাকারী সমন্বয়ক-প্রশিক্ষক আবু হেনা আবিদ জাফর। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন সুমাইয়া ইসলাম ও আশেক এলাহী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিভিশনের অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মশালার প্রধান সমন্বয়কারী চৌধুরী গোলাম মাওলা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও নাট্যচর্চা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়; এটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশের কেন্দ্র। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠক্রমের পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকা-ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, নাট্যচর্চা শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং সমাজের বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সংস্কৃতি একটি ব্যাপক বিষয়। সংস্কৃতি মানুষকে সভ্য করে। বর্তমান নষ্ট সময়ে মানুষের মাঝে সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ জাগাতে হবে।
ঢাকা থেকে আগত নাট্য কর্মশালা পরিচালনাকারী সমন্বয়ক-প্রশিক্ষক আবু হেনা আবিদ জাফর বলেন, মা-বাবারা তাদেও সন্তানদেও কেবল সাফল্যেও পেছনে ছুটতে বলছেন। আমরা কেবল সফল হতে বলছি, মানবিক হতে বলছি না। আর তাই মায়ের লাশ অবহেলায় অনেকদিন পড়ে থাকে নির্জন ঘওে, লাশ পচে যায়, লাশে পোকা আসে, সন্তান আসে না। তিনি নাট্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী বলেন, এ ধরণের কর্মশালা আরও হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব থেকে বের করা আনা হবে। তিনি বলেন সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজ ও মানুষ বদলাতে হবে। জুলাই বিপ্লবে বলা হোত ‘নাটক কম কর পিও” কিন্তু আইআইইউসি’র শিক্ষার্থীরা কর্মশালার মাধ্যমে যেসব নাটক উপহার দিয়েছে, এখন বলা উচিত এসব নাটক বেশি কর প্রিয়।
উল্লেখ্য, মাসব্যাপী নাট্য কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রধান অভিনয় প্রশিক্ষক নূরুর রহমান বাচ্চু, বিশিষ্ট নাট্য নির্দেশক ও বুয়েট’র চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হেনা আবিদ জাফর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইরা আহমেদ, বিশিষ্ট নাট্যজন ইঞ্জিনিয়ার আহমদ নাসিমুল হুদা নাওশাদ, বিশিষ্ট নাট্যজন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তাহসিনুর রহমান তালুকদার, আবৃত্তিশিল্পের শিক্ষক মোস্তাক খন্দকার এবং বিশিষ্ট মাইম শিল্পী ও অভিনেতা তারিফ মুরাদ। অনুষ্ঠানের শেষে নাট্য কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


















































