ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

পুঁচকে হাতি

নকুল শর্ম্মা

হেলেদুলে পুঁচকে হাতি
মাথায় দিয়ে রঙিন ছাতি
তাক ধিনাধিন ধিনা,
শুঁড় ঘুরিয়ে টুপটাপ হাঁটে
বন পেরিয়ে সবুজ মাঠে
বাজায় খুশির বীণা।

খোকন বলে পুঁচকে হাতি
কোথায় পেলে রঙিন ছাতি?
আমায় একটা দাও,
বৃষ্টি হলে মাথায় দিয়ে
যাবো তোমায় সঙ্গে নিয়ে
আর কী তুমি চাও?

নরম মাদুর দেবো পেতে
কলার মোচা দেবো খেতে
থাকবি মায়ের সাথে,
ঘুরে ঘুরে সারাটা দিন
চার পায়েতে তা ধিন তা ধিন
ঘুম যাবি তুই রাতে।

-advertise-

 

 

বর্ষা এলে

সৈয়দ জিয়াউদ্দীন

বর্ষা এলে
শিউলী, কদম ফুলের সাথে ঝুমকোলতা
বৃষ্টি ফোটার
তালে তালে ছন্দ সুরে বলে কথা।
বৃষ্টি ভেজা
খড়ের নীড়ে পাখির ছানা বেতস ঝাড়ে
মায়ের ফেরার
অপেক্ষাতে পালকবিহীন ডানা নাড়ে।
বর্ষা এলে
ঝর্না জলের ঢেউ বয়ে যায় নদীর বুকে
পারাপারে
অলস দুপুর ঘুমায় মাঝি নিবিড় সুখে
বর্ষা রাতে
টিনের ছালে টাপুর টুপুর ঘুঙুর বাজে
বৃষ্টি ফোটায়
লজ্জাবতী মুখটি লুকায় মিষ্টি লাজে।
বর্ষা এলে
শীতল হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় জলের কণা
বৃষ্টি তালে
রাখাল সাঁঝে কিষাণী মন হয় আনমনা
বর্ষা এলে
কবিতা গান ছন্দ সুরের বসে মেলা
জানালাতে
শ্রাবণের এই রূপটি দেখে কাটে বেলা।

 

 

অন্যরকম চড়ুইভাতি

বাবু হক

ডিঙি নাওয়ের সামনে খুকু
বৈঠা হাতে খোকা
উজল বিলে শাপলা ও ঢ্যাপ
তুলছে থোকা থোকা।

তাদের সাথে পানকৌড়ি
খেলছে লুকোচুরি
জলের নিচে মাছ শিকারে
ওদের নাই তো জুড়ি!

পানকৌড়ি হতো যদি
খোকা-খুকুর সাথি
ডাঙায় উঠে সবাই মিলে
খেলত চড়ুইভাতি!

সবাই জানে রান্নাবাড়ায়
খুকুর পাকা হাত
তা-ও জানে কেমনে রাঁধে
ঢ্যাপের বীজের ভাত !

শাপলা ডাঁটার সবজি হতো
পানকৌড়ির মাছে
তারই লোভে কাক বাহিনী
থাকত হিজল গাছে।

খোকা খুকু পানকৌড়ি
কাকের খাওয়া শেষে
যে যার বাড়ি বিদায় নিত
মিষ্টি করে হেসে!