তাঁর শান্তির বার্তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক
আজ ১২ রবিউল আউয়াল। এই পবিত্র দিনে মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, শান্তির অমিয় বার্তার বাহক বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সঙ্গে দিনটিকে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ হিসেবে পালন করছেন।
মহানবী (সা.)-এর পবিত্র ধুলির ধরায় আগমন তৎকালীন সময়ে কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না; এটি ছিল এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা। ষষ্ঠ শতাব্দীর আরব জাহান তখন ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ বা ঘোর অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত। পৌত্তলিকতা, অন্যায্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত, দাসপ্রথার নিষ্ঠুরতা আর নারীজাতির প্রতি চরম বৈষম্যে নিমজ্জিত সমাজব্যবস্থায় মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে প্রেরণ করেছিলেন সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ বা রহমতস্বরূপ।
সৌদি আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে এ দিনে পিতৃহীন হিসেবে তাঁর জন্ম। মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারাও হন। জীবনের শুরুতেই এমন চরম দুঃখ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলেও অসাধুতা, মিথ্যা বা কলুষতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। শৈশব থেকেই তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যবাদিতার জন্য তিনি শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবার কাছে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত হন।
৪০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্তির পর মহানবী (সা.) এক আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদের মহান বাণী প্রচার শুরু করেন। তাঁর ওপর নাজিল হওয়া পবিত্র কোরআন এবং তাঁর প্রচারিত ধর্মের মুল ভিত্তিই ছিল শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচার। মক্কার অমানুষিক নির্যাতন ও জুলুমের জবাবে তিনি কখনো সংঘাতের পথ বেছে নেননি, বরং দেখিয়েছেন পরম ধৈর্য, বিনয়, সহিষ্ণুতা ও ক্ষমাশীলতার দৃষ্টান্ত। ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন শত্রুভাবাপন্ন কুরাইশদের প্রতি তাঁর বিনাশর্তে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল ও অভূতপূর্ব ঘটনা।
মহানবী (সা.) কেবল একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে সফল রাষ্ট্রনায়ক, সমাজসংস্কারক ও মানবিক মূল্যবোধের সর্বোচ্চ প্রতীক। বিদায় হজের ভাষণে তিনি মানবাধিকার, বর্ণবাদের বিলোপ এবং নারী অধিকারের যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তা আজ সমগ্র বিশ্বের সার্বজনীন মূল্যবোধের প্রেরণা।
আজকের যুদ্ধ, বৈষম্য ও অস্থিরতায় জর্জরিত পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও জীবনদর্শন অনুসরণ করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। শুধু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিনটি সীমাবদ্ধ না রেখে, তাঁর শেখানো দয়া, পরমতসহিষ্ণুতা, দানশীলতা ও সততা নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করাই হোক আমাদের মূল অঙ্গীকার। রাসুল (সা.)-এর দেখানো শান্তির পথে হাঁটলেই মানবসমাজ ফিরে পেতে পারে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও সমৃদ্ধি।




















































