বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২৬
মহানগর

ভয় দেখানো ‘ডেভিড ইমন’ ভারতে পালানোর চেষ্টায় ধরা

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফিং করছেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম।

সুপ্রভাত ডেস্ক: চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ছড়ানো, ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’ নিজেই ভয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে যশোর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তার সঙ্গে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম এসব তথ্য জানান।

---------

তিনি বলেন, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ ও সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

পুলিশ জানায়, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যাসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমন’সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের পাইট্রাল টিলাপাড়ার একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার, অস্ত্রের উৎস, অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ও পুরো চক্রের কার্যক্রম উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শামীম (২৮), মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং মো. সাফায়েত হোসেন (২৪)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। কেউ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি করে পার পাবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।