ফিচার শিল্প-সাহিত্য

কবিতা

মানুষী

মাসুদ আনোয়ার

কতটা কষ্ট আর মুখে ফোটে
সামান্য কয়েকটি রেখা কীভাবে আঁকতে পারে
বেদনার মানচিত্র বলো!
আদি থেকে খ্রিস্টপূর্ব, তারপর খ্রিস্টাব্দের এতগুলো দিন
মানুষের এত কষ্ট
তবু শঙ্খের সমুদ্রে বন্দি অবুঝ সময়।
কান পাতো তার বুকে, সমুদ্রগভীর কষ্ট
বাতাসের মতো ফুটবে কানের কুহরে।
পৃথিবীর বুক চিড়ে প্রত্নতত্ত্ব তুলে আনা মানুষেরা
অন্তরীক্ষে অপর সৃষ্টি খোঁজে, আলোক সঙ্কেতে
মহাকাল ফুঁড়ে বেরিয়ে যাবার সুলুক চালায়…
তবু নিজেকে বোঝে না, আহা
মানুষ তো নিজের কাছেই এলিয়েন।
তবু এই ভাল
কষ্ট তোমার জন্যে, মানুষের ক্ষুদ্র বোধে মানুষী
তুমি থাকো অনন্ত বিস্ময়
তোমার প্রস্ফূটিত ফুলের মতো
চাঁদজ্বলা রাতে জোছনার রহস্যের মতো।
আমার তো দুঃখ নেই, বেশ বেঁচে আছি
অথবা দুঃখের ভাব আছে, বস্তু নেই
পায়ের কাছে সাপ দেখে রশি ভেবে লাথি মারি
তীব্র ছোবলে চমকে উঠি
তারপর মরে যাই দুঃখবোধহীন।

 

 

আলোগহ্বর

গোলাম রববানী

মানুষের কাছে গেলে ভীষণ রকম,
দূরে গেলে আরো
দুই রকমসকম, একসঙ্গে সঙ্গজোটে, অন্যত্র-
বাঁধগুলো ভাঙনের মুখে ভেঙেচুরে যায় এগিয়ে
সম্পর্কের মতন; পিছু পিছু ছায়া চলে
আলো বুকের পাঁজরে চুপটি করে ঘুমিয়ে।

 

 

চেতনায় বাংলাদেশ

এবি ছিদ্দিক

আমার চেতনা- সেতো
চির অপরাজিতা বিস্ময়কর প্রিয় বাংলাদেশ
যেখানে পলাশীর আম্রকানন শাণিত করে
মানুষের অদম্য বোধ যুগ-যুগান্তরে
বেঁচে থাকে বর্ণমালা লোক-লোকান্তরে।

অবারিত তেপান্তর; নয় কোনো মরু প্রান্তর,
সোনালি ধানের মাঠ, কৃষকের নির্মল হাসি,
কৃষাণীর শিম কুড়ানো যেন এক অভিন্ন সত্তা
আর এইতো আমার চেতনা অনিঃশেষ…

সদা জাগ্রত অপরাজেয় কৈবর্ত বিদ্রোহ
সময়ে কালজয়ী বটতলা হ্যামিলনের বাঁশি !
এখানে রক্ত গঙ্গায় ভেসে যায় অন্যায়
প্রয়োজনে নদী ও নারী কথা বলে এক সুরে

যে দেশে মাটি আর মানুষের সৌন্দর্য গ্রন্থিত-
পুলকিত লাউয়ের ডগায়; জেগে ওঠে সাম্য-
সিডর কিংবা নার্গিস দোলনে।
রাতভর ফুটে থাকে শিউলি,
কামিনী উঠোনের এক কোণে

 

 

কাঁচভাঙা বুক

মিজান মনির

জীবনের বাঁকে বাঁকে
কতো দেখি
তবুওÑ
সরে যায় চোখ, ভরে না বুক!
পাইনি প্রিয় কোনো ঠোঁট
সুদূরে লুকিয়ে আছো কোন সে অজানায়
ষোড়শী এসো আবার
দূর করো শোকÑ
কাঁচ ভাঙা বুক পেতে চায় অসুখ।

 

 

নিরঞ্জন মননে

বজলুর রশীদ

সময়ের ভুলটুকু গিলে গিলে
ধ্যানস্থ হতে দেখছি
সমান্তরাল কতগুলো পথ।
বিষণ্ণ মুহূর্তের গল্প শুনতে শুনতে
বিলাসী রাতটার পক্ষে নেই
ল্যাম্পপোস্টের মৃদু আলো!
জানা পথে এখন অজানা অধিক
কোথাও ভালো মানুষ নেই
নিরঞ্জন মননে…
উঁচু, নিচুর ব্যবধানে মৌলিক অসুস্থতা।

 

 

বয়স্ক হতে-হতে

নাহিদ সরদার

বয়সের নিক্তিতে দাঁড়িয়ে,
কিছু পছন্দ নিয়েছে হাতকড়া।
মন রেখে চলে যাই- মধ্য দুপুরে।
খাঁ-খাঁ স্টেশনে দলিত
আমার প্রিয় মধুমাঞ্জরী।
আমি বয়স্ক হতে-হতে শুনি
মানানসই কিছু গান-
বিচ্ছেদ অথবা
রোমান্টিক নয় এমন।

 

 

রঙ্গমঞ্চের পর্দা নেমে এলে

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

কারও চোয়াল ছুঁয়ে দেখার প্রয়োজন নেই,
স্বপ্ন গুম হওয়া চোখে অশ্রুর কতটুকু ভার!
শাড়ির আঁচলে নিবিড় পরিচর্যায় যে নদী
তার চেয়ে ভালো জানে কে জলের অনুবাদ?
চার দেয়ালে রুদ্ধশ্বাস প্রহর গোনা যার
তার জানা,
বাহিরের পৃথিবী কতটুকু মুক্ত ও উদার!
কেন যে জীবন এত নিদারুণ?
কেন যে জীবন এত নিষ্ঠুর?
দগ্ধ চোখে শুকায় কেন অশ্রুস্নাত রোদ্দুর?
তবু নাক-মুখ চেপে ধরে ফুলিয়ে রেখে ফুসফুস
হৃৎপিণ্ডের ধকধকে টিকে থাকা নারীই
অদম্য লড়াইয়ে মনোযোগী লড়াকু…
জীবন নামক রঙ্গমঞ্চের পর্দা নেমে এলে ধীরে
মানুষ পাঠ করে তার অভিনয়ের শ্রেষ্ঠ খেতাব!