বিজনেস

নতুন প্রজন্মের পাশে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

সুবিধাবঞ্চিত ২৪ শিক্ষার্থীকে এক বছর বিনামূল্যে কোডিং শিক্ষা

সুপ্রভাত ডেস্ক >>

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু অবকাঠামো, কারখানা কিংবা ভবন নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না; বরং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিও হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও সফটওয়্যার প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মক্ষেত্র। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মেধাবী শিশু এখনো এসব সুযোগের বাইরে রয়েছে।

---------

এমন বাস্তবতায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রযুক্তিশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এগিয়ে এসেছে Mutual Trust Bank PLC (MTB)। ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) উদ্যোগের আওতায় Dreamers Academy-এর সঙ্গে অংশীদারত্বে ২৪ জন সুবিধাবঞ্চিত স্কুলশিক্ষার্থীকে এক বছর বিনামূল্যে কোডিং শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু কয়েকটি কোডিং ক্লাস পরিচালনা করা নয়; শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে লাগবে।

উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা এক বছর Dreamers Academy-এর নির্ধারিত কারিকুলাম অনুসরণ করে নিয়মিত ক্লাস করবে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি থাকবে অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা ও ব্যক্তিগত একাডেমিক সহায়তা। প্রতি তিন মাসে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করলে শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেটও পাবে।

আয়োজকদের মতে, ২৪ জন শিক্ষার্থী হয়তো বড় কোনো সংখ্যা নয়। কিন্তু একটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রযুক্তিশিক্ষার সুযোগ তৈরি তার ভবিষ্যতের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব একটি পরিবার থেকে কমিউনিটি, এমনকি বৃহত্তর সমাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বও বাড়ছে। শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; প্রয়োজন এমন একটি প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তি বুঝবে, নতুন কিছু তৈরি করতে পারবে এবং পরিবর্তনশীল কর্মজগতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম হবে।

তবে আর্থিক সামর্থ্যের কারণে অনেক শিশুই প্রযুক্তিশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল বিভাজন। এই বিভাজন কমাতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Dreamers Academy-এর কো-ফাউন্ডার শরীফ আহমেদ বলেন, সবার মধ্যে মেধা থাকলেও সুযোগ সবার সমান নয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ থাকা উচিত। শিশুদের মধ্যে বিনিয়োগ মানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।

তিনি এ উদ্যোগে অংশীদার হওয়ায় Mutual Trust Bank PLC-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, একসঙ্গে এমন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা হয়তো এসব শিশুর অনেকেই কখনো নিজেদের জন্য কল্পনাও করেনি।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর শুধু সরকার বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সরকারি, বেসরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব প্রয়োজন। MTB ও Dreamers Academy-এর এই উদ্যোগ সেই অংশীদারত্বের একটি উদাহরণ।

এখানে কোডিং শেখানোর লক্ষ্য শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়; শিক্ষার্থীরা কীভাবে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হয়, সমস্যা সমাধান করতে হয় এবং নিজেদের ধারণা নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হয়—সেসব দক্ষতাও অর্জন করবে।

একটি শিশুর জন্য একটি সুযোগ কখনো কখনো তার পুরো ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। আর বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎও তখনই আরও শক্তিশালী হবে, যখন মেধাবী শিশুদের জন্য সম্ভাবনার দরজা আরও বেশি খুলে দেওয়া যাবে।