মহানগর

বন্দরের বহির্নোঙরে ‘ভাসমান গুদাম’ প্রতিরোধে যৌথ অভিযান

কারাদণ্ড ২৪ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক >>

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজকে অবৈধভাবে পণ্য মজুদের ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

---------

বুধবার (১২ আগস্ট) কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যাতে পণ্যবাহী জাহাজকে দীর্ঘ সময় নোঙর করিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন্দরে আসা পণ্যবাহী জাহাজ বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো বা খালাসের বিধান যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তাও অভিযানে যাচাই করা হয়েছে। পণ্য পরিবহন ও খালাসে অযথা বিলম্ব কিংবা পণ্য আটকে রাখার মতো অনিয়মের সুযোগ বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ সময় বহির্নোঙরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের চালকদের নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জালে প্রতিবন্ধকতা, ২৪ জনের কারাদণ্ড

যৌথ অভিযানে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় ট্রলারে তল্লাশি চালানো হয়। মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও নিরাপত্তাঝুঁকি সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে VHF Channel 12 ও 16-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ ও দুটি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও দুটি বোট অংশ নেয়।

বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান আরও জোরদার করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।