ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

বন্ধু আমার হায়দার

ইকবাল বাবুল

কেউ বলে সে খুব ভালো লোক
কেউ বলে সে কী উদার
লোককে বলে – লাগলে কিছু
আমার থেকে নিও ধার।
রাত বিরেতে যায় ছুটে সে
কারোর যদি ডাক আসে
দুইহাতে তার উড়ায় টাকা
পকেট করে ফাঁকা সে।
কাউকেও সে পর ভাবে না
নেয় টেনে তার কী কাছে
যে যা’ই বলুক নাড়ায় মাথা
হেসেই বলে ঠিক আছে।
মোটেও সে ধার ধারে না
নিজের কোনো ফায়দার
লোকটা তবে আর কেউ নয়
বন্ধু আমার হায়দার।

-advertise-

 

 

একটু আদর দিও

পংকজ দেব অপু

লক্ষ তারায় আকাশ যখন ভরে
ঝলমলিয়ে রুপোলি চাঁদ ওঠে
ঠিক তখনই আমার হৃদয় ’পরে
হাজার হাজার ব্যথার গোলাপ ফোটে।

‘বাপের’ স্মৃতিও ঝাপসা দুটি চোখে
দুখের ভারে তাইতো আমি কালা ;
আজ আমাকে এতিম বলে লোকে
হৃদয় জুড়ে শূন্যতারই জ্বালা।

‘ভাইয়া’ আমার ছিল প্রাণের প্রদীপ
সুখ-দুখেতে জ্বলতো সদা মনে ;
কিন্তু আবার নিভলো যে সে দীপ
তেল ফুরায়ে হঠাৎ সংগোপনে।

‘কাজলা দিদিও’ এখন শ্বশুর বাড়ি
‘মা’ও গেছেন একলা আমায় ফেলে—
কারেইবা আজ ভাবতে আপন পারি
এই ভুবনের একটি এতিম ছেলে!

যখন আমি এসব কথা ভাবি
দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরে পড়ে
বাপের স্নেহ মায়ের কোলের দাবি
উড়ে গেছে স্বপ্ন-ভাঙা ঝড়ে।

এখন আমি বন্ধু-স্বজন হারা
এই হৃদয়ে নেই তো আপন-প্রিয়
আমার ব্যথায় কষ্ট পেলে যারা
ভাইটি ভেবে একটু আদর দিও।

 

 

গোল গোল গো

আহসানুল কবির রিটন

যার মুখে ফুটেছে আদো আদো বোল,
গোলবারে বল গেলে সেও বলে গোল।
উত্তর, দক্ষিন, পশ্চিম ও পূবে,
যেখানেই সূর্যটা ওঠে আর ডোবে।
সবখানে আছে যার নিজ নিজ ভাষা,
সে ভাষায় কথা বলে সাহেব ও চাষা।
কিন্তু এ দুনিয়ার সব নর-নারী,
জালে বলে ঢুকলেই ওঠে তাড়াতাড়ি।
মুহূর্তে সকলের মনে লাগে দোল,
উল্লাসে বলে ওঠে গোল গোল গোল।
হোক না সে ইংরেজ নয়তো বাঙাল,
যুৎসই একখানা গোলের কাঙাল।
মাঠ কাঁপাতে চাই গোল
দুই-চার,
গোল দাও তাই সব
বাধা করে পাড়।

 

 

টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে

সাইফুদ্দিন সাকিব

টাপুর টুপুর বৃষ্টি ঝরে
একলা এ মন রয় না ঘরে।
একটানা সেই সুরটি তোলে
কে এলো এই ধরার কোলে?

আকাশ হতে বীরের বেশে
আসছে যেনো হেসে হেসে
টাপুর টুপুর টুপ,
গাছের ডালে শন্ শনা শন্
ঘরের চালে টন্ টনা টন্
ঝুপ ঝুপা ঝুপ্ ঝুপ্।

নিঝাপ নিঝুম ভর দুপুরে
সুর তোলে কে, সুর নূপুরে
বৃষ্টি মেয়ে কি?
অনেক দিনের মান ভুলে সে
ঝম্ ঝমা ঝম্ সুর তোলে সে
আসলো ধেয়ে কি?

 

বর্ষার প্রেমগীতি

হানিফ রাজা

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে
শুরু হলো বর্ষাকাল,
টিনের চালে বৃষ্টি পড়ে
জাগে মনে ছন্দতাল।

টাপুরটুপুর বৃষ্টিধারা
খালেবিলে জলের রাজ,
সবুজ পাতা ঘোমটা খুলে
ভুবন ভরায় নতুন সাজ।

কদম ফুলের গন্ধ মেখে
মাঠে চলে চাষা ভাই,
নদীর বুকে রুপালি ঢেউ
ভেসে চলে ডিঙি তাই।

চাতক পাখি ডানা মেলে
উড়ে চলে নীল আকাশ,
বর্ষা এসে প্রকৃতিকে
সাজায় যেনো স্বপ্নের বাস।

সন্ধ্যা নামে মেঘের কোলে,
ডাকে দূরের বনবীথি,
বর্ষা যেন প্রকৃতিরই
অলিখিত প্রেমগীতি।

 

বুড়ো বটগাছ

অপু বড়ুয়া

হাটখোলা পার হয়ে পথ গেছে ঠেকে
মাঝপথে বুড়ো বট কাছে নেয় ডেকে।
গ্রীষ্মের খরতাপে চলা বড় দায়-
ঘামে ভেজা পথিকের হাঁপসিয়ে যায়।

একটুকু ছায়া পেলে পরান জুড়ায়
ভাবতেই বুড়ো বট ডাকে আয় আয়।
ছায়া দিয়ে মায়া দিয়ে জুড়াই পরান
বোঝানো যাবে না বলে তার অবদান।