বিজনেস

সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বেড়ে ৮

সুপ্রভাত ডেস্ক >>

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

---------

মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে ছয়জনের নাম–পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন, সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০), নাসির উদ্দিন (৩৮), মো. রানা (২৫), খোকন (২৬) ও হাবিবুর রহমান। তাঁরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

নিহত খোকনের চাচা এবং কাখানাটির সাবেক শ্রমিক আঙ্গুর আলী বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমি দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কারখানার ভেতরে ভয়ানক অবস্থা। বিস্ফোরণের পর লোকজন এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল। গ্যাসের কারণে ভেতরে ঢোকা যাচ্ছিল না। পরে একটি সময় ঘটনাস্থল থেকে আমরা ভাতিজা খোকনসহ পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে আনার ডাক্তার সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ৬ জনকে আনা হয়েছিল এরমধ্যে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত আরেকজনকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি করা আছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডাক্তার ইশতিয়াক বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে গ্যাস বিস্ফোরণে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, ২ টা ২০ মিনিট নাগাদ হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিকের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সীতাকুণ্ড থানাধীন ভাটিয়ারী ফেরদৌস স্টিল নামে কারখানায় এই গ্যাস বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটেছিল। নিহত ৬ জনের মরদেহ বর্তমানে লাশ ঘরে রাখা হয়েছে। আহত একজনকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কীভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।