ভাস্কর্যে চেয়ে দেখা
বজলুর রশীদ
তোমার শহরটা যেন এক গল্প…
অসমাপ্ত গান হেঁটে বলে, আকাঙ্ক্ষা অসীম।
হাওয়ায় ওড়া গল্পের মিথ্যে ভালোবাসায়
স্বচ্ছ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে সুরভী উদ্যান,
গাছের পাতার রঙে তিন প্রহরের কথোপকথন।
রাতের প্রান্তে সবে ঘুমহীন সবুজ আলোও
নামে সৌন্দর্যের কত্ত বিজ্ঞাপন পাঠ,
আর আমার চোখের নিরব হাসিতে নেই
ভাস্কর্যে চেয়ে দেখা কবিতার নয়াপাঠ…
পল্লবিত
আরফান হাবিব
আপাতত অবসরপ্রাপ্ত শাড়িটি
সূর্যের বেগুনি রংয়ের নিচে
চিরস্থায়ী স্পর্শ
জলের সংস্পর্শে প্লাবিত
পল্লবিত পালক ছুঁয়ে দেয়
ক্ষুধার্ত আগুন
অলসপরায়ণ চিত্রনাট্যে
কোথায় ফুলের রেণু উড়ে যায়Ñ
দেবলোকের অমাত্যসভায়?
কবিতার বিদ্রোহে শিবতাণ্ডবের রাহুগ্রাসী ধ্বনি
সুশান্ত হালদার
(প্রয়াণ দিবসে প্রথাবিরোধী কবি হুমায়ুন আজাদকে)
আমি আজ কোথাও নেই,
যারা সভ্যতার টুটি ধরে
রক্তনদী বয়ে বেড়াচ্ছে অপদেবতার আশীর্বাদে
এই ধোঁয়া ওঠা পৃথিবী আলকাতরার গন্ধে বিদূষিত করে
আজ তারাই পুরষ্কৃত রাবণ চিতার মেঘনাদবধ কাব্য জুড়ে।
আমরা যারা এখনো বেঁচেবর্তে আছি
এই অধঃপতিত ধানক্ষেত শুকিয়ে যাওয়া খালবিল ভাঙাচোরা নীলিমা দেখে,
তারা কি জানি
এই জনপদ গাভীর ওলানের মতো মাতৃছায়ায় নিরাপদ ছিল আমাদের সদ্যপ্রাপ্ত মাতৃভূমি?
আমরা কি জানি
ঋতুর সুমিষ্ট ঘ্রাণ এখানে এনে দিয়েছিল
স্বর্গের উদ্যানের মতো ব্যাবিলনের চারণভূমি?
আমরা কি জানি
মধ্যযুগ পেরিয়ে চন্দ্রগুপ্ত ছাপিয়ে এখানে এসেছিল
আলোক বর্তিকায় প্রজ্জ্বলিত হয়ে হুমায়ুন আজাদের মতো প্রথাবিরোধী কবি?
যার রক্ত আর বুকজুড়ে ছিল কবিতার বিদ্রোহে শিবতাণ্ডবের রাহুগ্রাসী ধ্বনি,
কিন্তু পাগলা চৈত্র যখন জলাতঙ্কে আতঙ্কিত হলো আমারই ফলদ বৈশাখ ভূমি
তখন কবির বুক আর পিঠ ভ’রে দেখা দিল
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের ব্যাধিগ্রস্ত বিষন্ন সব রোগাক্রান্ত নদী,
যে নদীতে ঈশ্বর মধ্যস্থতায়
মরণডঙ্কা বাজিয়েই চলছে ঘাতক কোবরা আর বেজি।
হে কবি!
আপনি এখন নরক নন্দিত পৃথিবী থেকে
সপ্তাকাশ ভেদ করে নীল আসমান-বাসী,
অথচ দেখুন
আমরা এখনো যারা আপনারই রেখে যাওয়া কাহ্নপা আলাওলের উত্তরসূরি
জননীর নিনাদিত সকাল বেয়ে
এখনো যারা ক্লাইপিং করে যাচ্ছি মাতৃভূম স্বদেশী শরীরে,
তারাই আজ ক্ষতবিক্ষত কুপিত শক্রুর আঘাতে !





















































