ফিচার এলাটিং বেলাটিং

ছড়া ও কবিতা

কচি মুখ

সাইফুদ্দিন সাকিব

এ পাড়ার কচি মুখ নাম হলো অন্তু
সারাদিন টিভি খুলে দেখে জীব জন্তু|
কোনোদিন টিভিতে সে দেখে না তো নাচ গান
মোটা সোটা আদুরে সে খাড়া তার দুই কান|
রোজ রোজ মাঠে গিয়ে খেলে সে হাডুডু
বাড়ি ফিরে শুরু হয় কানামাছি বা লুডু|
অন্তুটা হতে চায় আকাশের পাখিও
পড়া ফাঁকি দিলে মা দেয় খুব ঝাঁকিও|
শাসন বারণ যতো বোঝে না তো সে কিছু
মা’র বকা খায় তবু ছাড়ে না তো সে পিছু|

 

খোকার বায়না

আহসানুল হক

মায়ের কাছে বায়না ধরে
খোকা….
দিন-দুপুরে এনে দিতে
জোনাক থোকা থোকা !
বায়না ধরে আরও
এনে দিতে রামধনু রঙ গাঢ় ;

দূর আকাশে ঝুলে থাকা
চাঁদখানা তার চাই
খোকার দাবি পূরণ করার
সাধ্যি মায়ের নাই !

এসব দাবি পূরণ করা
যায় কখনো বলো ?
অবুঝ খোকা গোমড়ামুখো
চক্ষু ছলছলো !

 

 

এই ছোট গাঁয়ে

আরজাত হোসেন

এইখানে মেঠোপথ এইখানে নদী
এইখানে সারাদিন থাকতাম যদি!
কিশোরের সাথে সাথে জাল নিয়ে বিলে
মাঠ, নদী পেরোতাম আকাশের নীলে|
ধারে ধারে বিউ ফুল আছে বেশ ফুটে
এই জল কলকল কার পানে ছুটে!
বাঁশঝাড়ে ঝাঁক বেঁধে পাখিদের মেলা
এইটুকু পানিতেই পুঁটিদের খেলা!
সাদা বক চুপিচুপি খাড়া এক পায়ে
আমি যদি থাকতাম এই ছোট গাঁয়ে !!

পাল বেঁধে মেষ চড়ে পাল বেঁধে গরু
আলপথে ছেয়ে গেছে ঘাসফুল, তরু|
নদী পারে কুঁড়েঘর আছে একখানি
আঙিনায় এসে গেছে জোয়ারের পানি|
ঝাঁকবেঁধে হাঁসগুলো জলে করে নাচ
ছেলেমেয়ে গুণে যায় তিন, চার, পাঁচ|
আকাশের বুকে ওড়ে ঘুড়ি সারাবেলা
ধান ছিটে বসাতাম পাখিদের মেলা|
এই পথ ওই পথ ঘুরে নিরবধি
এইখানে সারাদিন থাকতাম যদি !

 

 

মুরগীর ছানা

শ্যামল বণিক অঞ্জন

তুলতুলে ফুটফুটে মুরগির ছানা!
টুক টুক করে খায় ছোট ছোট দানা|
ছোট ছোট চোখে কারো কাজলের টানা
দেখতে দারুণ লাগে কচি কচি ডানা!
তুলতুলে ফুটফুটে মুরগির ছানা
শিকারীরা ঝোপ বুঝে দিতে চায় হানা|

 

 

নীলাম্বরী স্বপ্ন

কুলসুম বিবি

রাতের গায়ে ঝিকিমিকি চাঁদভাজা খই আঁখি,
দুঃখ ভুলে যায় উড়ে যায় মনের সবুজ পাখি|
¯^প্নগুলো নীলা¤^রী চাঁদের হাটে রাখি,
কল্পনাতে ডানা মেলে রঙিন ¯^প্ন আঁকি|

গল্প সাজাই মনে মনে সোনা রোদের মতো,
নীল দরিয়ার বুকে ভাসাই সুখ জোছনা যতো|
অচিন দেশে পাড়ি জমাই মেঘের ভেলায় ভেসে,
জাদুর কাঠির খেলা খেলি নীল তারাদের দেশে|

আঁকাবাঁকা ঝিলিমিলি ঠাটধরানো পথে,
একলা একা ঘুরিফিরি শানবাঁধানো রথে|
আমায় দেখে হাত ইশারায় ডাকে নীলা গিরি,
কল্পলতা বেয়ে বেয়ে মাটির বুকে ফিরি|

 

 

কাল বোশেখী

মজনু মিয়া

ঈশান কোণে কালো মেঘ
করছে ভীষণ সাজ,
গুড়ুম গুড়ুম দেয়া ডাকে
ফেলছে বিজলি-বাজ|

শুরু হলো দমকা হাওয়া
ভাঙছে বাড়ি ঘর,
গাছপালা সব দুমড়ে মুচড়ে
ফেলছে প্রবল ঝড়|

এমন দৃশ্য দেখছি যখন
কালবোশেখী নামে,
খোকা-খুকুর আনন্দ খুব
কুড়িয়ে পাওয়া আমে|