রতন কুমার তুরী »
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম গ্রহণ করেও অ্যালেন গিন্সবার্গ প্রতি পদে পদে লিখেছিলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবিতা| শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় সারা পৃথিবীব্যাপী তিনি পাঠ করেছিলেন যুদ্ধবিরোধী কবিতা|
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের পরম বন্ধু| মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের নিয়ে কবিতা ও গান লিখেছেন| শুধু তাই নয়, শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন| যদিও তার দেশের সরকার আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ঘোর বিরোধী ছিল| তারা শত্রপক্ষ পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন করে আসছিলো| আর এই দেশের মানুষ হয়ে সরকারের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন এই কবি|
তিনি ১৯২৬ সালের ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন| তিনি একাধারে কবি, লেখক, গীতিকার এবং মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী| তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আমাদের ¯^াধীনতা আন্দোলনের একজন বিরাট সমর্থক ও সহায়তাকারী|
গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ¯^াধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘুরে বেরিয়েছিলেন| এসময় যশোরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিখ্যাত ‘সেপ্টে¤^র অন যশোর রোড’ কবিতাটি লেখেন| যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে বন্ধু বব ডিলান ও অন্যদের সহায়তায় এই কবিতাটিকে তিনি গানে রূপ দিয়েছিলেন| কনসার্টে এই গান গেয়ে গেয়ে এই দুই কবি বাংলাদেশি শরণার্থীদের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন|
তিনি ১৯৫০-এর দশকের বিট প্রজন্ম এবং বিপরীত সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি| তিনি সামরিকতন্ত্র, অর্থনৈতিক বস্তুবাদ এবং যৌন নিপীড়নের ঘোর বিরোধী ছিলেন|
প্রথম জীবনে গিন্সবার্গ তার ‘হাউল’ (১৯৫৬) মহাকাব্যের জন্য সর্বাধিক পরিচিতি পান, যেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে নিন্দা করেন| এই কবিতাটি লিখেছিলেন তার বিট প্রজন্মের বন্ধুদের বরণ করে নিয়ে এবং বস্তুবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে আক্রমণ করে|
অ্যালেন গিন্সবার্গ ভারতবর্ষে থাকাকালীন সর্বাধিক সময় কাটিয়েছিলেন কলকাতায়| ১৯৬২-১৯৬৩ সালে তিনি পশ্চিমবাংলার কবিদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন| তার সঙ্গে হাংরি আন্দোলনের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও মলয় রায়চৌধুরীর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে এবং তিনি আমেরিকায় ফিরে গিয়ে হাংরি আন্দোলনের কবিদের রচনা সেখানকার প্রখ্যাত পত্রিকাগুলিতে প্রকাশের ব্যবস্থা করেছিলেন| অ্যালেন গিন্সবার্গের বিখ্যাত কবিতা ‘হাউল’ এবং ‘ক্যাডিশ’ বাংলায় অনুবাদ করেছেন মলয় রায় চৌধুরী| জন্মদিনে কবির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা| বাংলাদেশ নামক একটি নতুন দেশ সৃষ্টির পেছনে কবি আ্যলেন গিন্সবার্গ যে অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের মানুষ তা চিরদিন মনে রাখবে|





















































