মহাকালের পুতুলনাচ
মুন্সী আবু বকর
সবুজ জমিনে পাতা অসংখ্য দাবার ঘুঁটি,
রাজার পতন ঘটায় লাখো জনতার মুঠি|
রঙিন সুতোয় বাঁধা বত্রিশ দাঁতের হাসি,
হাসির অন্তরালে নিয়তির অমোঘ ফাঁসি|
গুঞ্জনে ভেসে আসে অদ্ভুত এক চিত্রনাট্য,
নতুন রাজা খতিয়ে দেখে পুরনো সব পাঠ্য|
একপক্ষে দেবদূত, অন্যপক্ষে যে কীট
দুই মেরুর দ্বন্দ্বে জাগে উত্তরাধুনিক গীত|
ভয়ের চাদরে ঘেরা ছায়াবাজি এই নগর,
¯^ার্থের টানে আসে ˆবশাখী কালোঝড়|
প্রমাণহীন জনশ্রুতির শূন্য ক্যানভাসে,
ফোঁটা ফোঁটা রক্তে ইতিহাস আজও হাসে|
মানুষ অথবা একদল পঙ্গপাল
মান্নান নূর
হাত বাড়ালেই আগুনে পুড়ে যায় হাতের আদর,
প্রসারিত সোনালি রোদ্দুর হয়ে ওঠে উত্তপ্ত সীসা|
চোখের ওপর কেউ না কেউ এসে
সুকৌশলে ঢেলে দিয়ে যায়|
চোখ তার স্নেহের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে
বসে থাকে দেহের ভেতর|
হৃদয় বিছিয়ে দিলে কেউ না কেউ
বেওয়ারিশ জমি ভেবে তছনছ করে দিয়ে যায়|
হৃদয় কোনো এক বিরান ভূমির মতো মরাগাছে ঝোলে|
যখন আমি মানুষ হয়ে উঠি, অথবা
মানুষ ভেবে কারও পাশে দাঁড়াই,
একদল পঙ্গপাল চোখে ভেসে ওঠে|
আমার আর্তনাদ তখন শোনে কেবল দূরের বিদগ্ধ আকাশ|
তাপ-উত্তাপ
বাদল রহমান
ঘন রোদ – তাজা যুবতী
ঘামে ঝরে যাচ্ছি
শান্ত বালক..
রোদে পুড়ে পুড়ে
অশান্ত হচ্ছে
সুুবোধ বালক…
বাইরে রোদের তাপ
ঘরেও উদ্গত বালিকার উত্তাপ
ওগো বিজুরিয়া
তোমার হিজাব খুলে তুলে ধরো
বালকের মাথার ওপর …
আশ্রয়
শাহীন মাহমুদ
মাতৃগর্ভ জলেই তো ভালো ছিলাম
নিরাপদ আশ্রয়
মনুষ্যত্ব হারালে রাষ্ট্র অসহায়!
রাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ কী?
মানবিকত মূল্যবোধ কতটুকু
খোয়ালো নিক্তি মাপবে কে?
ও ˆসন্ধবলবণ – রক্তচাপ কমাও
ও শঙ্খবীণা – দু’চোখে ঘুম এনে দাও
ও কড়ি – খুলে দাও মায়ের জরায়ু মুখ
আমার নিরাপদ আশ্রয় চাই
আবার ভাসবো মাতৃগর্ভ জলে
নিরাপদ আশ্রয়ে|
মিজান মনির
কাঁচভাঙা বুক
জীবনের বাঁকে বাঁকে
কতো দেখি
তবুও—
সরে যায় চোখ, ভরে না বুক!
পাইনি প্রিয় কোন ঠোঁট
সুদূরে লুকিয়ে আছো কোন সে অজানায়
ষোড়শী এসো আবার
দূর করো শোক—
কাঁচ ভাঙা বুক পেতে চায় অসুখ|





















































