‘খবরের কাগজ হাতে নেয়ার আগেই বুক কেঁপে ওঠে’

0
45

সুপ্রভাত ডেস্ক :
করোনার ভয়াবহতার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই কারো না কারো কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাছের মানুষগুলো। জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে। সোশ্যাল মিডিয়া, খবরের কাগজ আর টেলিভিশন জুড়ে কেবল মৃত্যুর মিছিল। সবাই যে যার মতোন করে প্রার্থনা করছেন এই খারাপ সময়টা যেন দ্রুত চলে যায়। দুই বাংলার জন্য প্রার্থনা করছেন জয়া আহসানও।
অভিনেত্রীর সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রার্থনার এক ঝলক দেখা গেল। শনিবার (১ মে) সকালে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মনটাকে জাগিয়ে রাখা কী যে কঠিন মনে হচ্ছে আজকাল। এত ক্ষয়, এত মৃত্যু, এত হাহাকার! চারদিকে যেন শুধু একটাই চিহ্ন, বিয়োগের। আমাদের কত না আপনজন উষ্ণ হাতের মুঠো ছেড়ে বিদায় নিচ্ছেন। যারা আমাদের আনন্দের সময়ের বন্ধু, বেদনার সময়ের আশ্রয়, বিপদের সময়ের ভরসা, তারা চলে যাচ্ছেন একে একে। চলে গেলেন সৌমিত্র কাকুর মতো মেঘ–সমান উঁচু একজন মানুষ, চলে গেলেন আরও কত কত কবি, লেখক, শিল্পী। ঢাকায়, কলকাতায় একই অন্ধকার ছবি। সমস্ত ভারতেই করোনার ভয়ংকর থাবায় মানুষ বড় নিঃসহায়।
মন খারাপ করা নিউজ ফিডের সোশ্যাল মিডিয়া যেন মৃত্যুর প্রান্তর। খবরের কাগজ হাতে নেয়ার আগেই বুক ধক করে ওঠে, আজ জানি আবার কে!
ওপারের সহকর্মীদের স্মরণ করে জয়া লিখেছেন, কলকাতায় আমার বন্ধু সহকর্মীদের কথা ভাবি।কতদিন দেখা হয়নি। অসম্ভব কষ্টের একটা সময় পার করছে তারা। একটা করে মন্দ খবর শুনি, আর আমার মনটা নিভে আসে একটু একটু করে।
যাদের সঙ্গে এতদিন ধরে কাজ করছি কলকাতায়, পরিচালক–শিল্পী–কুশলী–সহযোগী, শুনি তাদের কষ্ট, অসুস্থতা আর বিদায়ের খবর। আমার আলো কমে যায়।
সবার জন্য মঙ্গল কামনা করে লিখেছেন, আমার কেবলই মঙ্গল কামনা। আলো ফিরে আসুক সবার জীবনে। হতাশার এই অন্ধকারে মন যেন পথ না হারায়। তোমার মুক্তি আর আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আঁধারে। বন্ধুরা, মন শক্ত করে বাঁধো। সময় আসছে। আবার আমরা একসঙ্গে, হাতে হাত ধরে, প্রান্তরের শেষ রেখার দিকে ছুটব। ওই রেখাটা পার হতে এখনো যে বাকি। খবর : ডেইলিবাংলাদেশ’র।