চট্টগ্রাম নগরী ও এর আশেপাশের অঞ্চলে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ছোঁয়াচে ভাইরাল সংক্রমণ হাম এবং মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গুর যৌথ আক্রমণ সাধারণ মানুষের জনজীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য এই পরিস্থিতি হয়ে উঠছে জীবনঘাতী। একটি বন্দরনগরী ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে একই সঙ্গে দুই রোগের এমন বাড়বাড়ন্ত স্বাস্থ্য খাতের চরম প্রশাসনিক শৈথিল্য এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে সাময়িক স্থবিরতা বা অসচেতনতার কারণে তা আবারও ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি বছর বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ জানা সত্ত্বেও কার্যকর মশক নিধন অভিযানের অভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন ড্রেন, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্বাস্থ্যঝুঁকি একসঙ্গে মোকাবিলা করা যেকোনো চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্যই কঠিন, আর আমাদের বিদ্যমান ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামোর জন্য তা এক বিরাট পরীক্ষা।
এই স্বাস্থ্যঝুঁকি সামলাতে এখনই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—চিকিৎসা সুবিধার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং কার্যকর মাঠপর্যায়ের প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
প্রথমত, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। প্লেটলেট সংকট বা জরুরি অক্সিজেন সেবা যেন কোনো রোগীর মৃত্যুর কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে এখনই কেন্দ্রভিত্তিক মনিটরিং সেল চালু করা দরকার। পাশাপাশি, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক চিকিৎসার উপযোগী করে তুলতে হবে, যাতে মূল হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
দ্বিতীয়ত, মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নামমাত্র ক্র্যাশ প্রোগ্রামের বদলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কার্যকর ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা ও তার লার্ভা ধ্বংসে নামতে হবে। একই সঙ্গে, হামের বিস্তার রুখতে টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা জরুরি।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিও এখানে সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গৃহস্থালি এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং শিশু ও পরিবারের সদস্যদের টিকাদানের গুরুত্ব বোঝাতে মাইকিং, লিফলেট ও স্থানীয় প্রতিনিধিদেড় সম্পৃক্ত করতে হবে।
চট্টগ্রামকে বড় ধরনের মহামারি বা স্বাস্থ্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যানে নামতে হবে।
মতামত সম্পাদকীয়



















































