সুপ্রভাত ডেস্ক »
ইসলামী ব্যাংক বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।
দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার প্রথমবার ইসলামী ব্যাংকে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জহির হোসেন। তিনি বলেন, নিয়মিত পরিচালনগত কাজ ছাড়া অন্য কিছু তিনি করবেন না।
“আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেটা আগের মর্যাদায় নিয়ে যেতে চাই।’’
চেয়ারম্যান বসানো নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে রোববার রাতে ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন ইসলামী ব্যাংক পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
‘আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
তবে ইসলামী ব্যাংকে জহির হোসেনের পরিচয় কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা ছিল না সার্কুলারে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জহির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “চেয়ারম্যান বলতে পারেন। এটা এক সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করব।’’
তিনি বলেন, “আমাকে তো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করতে। আমি অপারেশনাল কাজগুলো করব। প্রায়োরিটি বেসিস ব্যাংকের যেসব করা দরকার, সেগুলো করব।”
‘ঋণের নামে বের করে নেওয়া’ অর্থ উদ্ধারে আইনি পদক্ষেপে গতি আনার কথাও বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।
খেলাপি হওয়া ঋণের মধ্যে একটি মামলায় রায় পেয়ে সম্পদ বিক্রি করার উদ্যোগ নেয় ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকও ঠিক করা হয়েছিল, কিন্তু দুদকের মামলা থাকায় সেটা বিক্রি করা সম্ভব হয়নি বলে তথ্য তুলে ধরেন ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসাইন।
তিনি বলেন, “আমাদের ক্যাশ শর্টেজ (নগদ অর্থ ঘাটতি) থাকায় সব সার্ভিস চালু করা যাচ্ছে না। সেলফিন (ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেন অ্যাপ) আজকে চালু হবে। লিমিট জটিলতায় চালু করা যায়নি “
বেলা দেড়টার দিকে জহির হোসেন যখন ইসলামী ব্যাংকে কথা বলছিলেন, তখন বাইরে টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে ছিলেন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামে এক প্ল্যাটফর্মের সমস্যরা, যারা এর আগে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করার বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছিলেন।
সকাল থেকে অবস্থান শেষে বেলা সাড়ে ১২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
তিনি বলেন, “অনতিবিলম্বে পরামর্শের ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করতে হবে। বন্দুক ঠেকিয়ে যাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকনা ফেরত দিতে হবে। ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে।”
শরিয়াহভিত্তিক এ ব্যাংকটিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয় কোরবানি ঈদের আগে। গেল ২৪ মে পদত্যাগ করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান।
সেদিনই নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু ঈদের পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন একদল ব্যক্তি।
এই অস্থিরতার মধ্যে ব্যাংকটি থেকে গ্রাহকরা তিন হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বলে খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা গড়ায় জাতীয় সংসদেও।
ফের ইসলামী ব্যাংক ‘দখলের চেষ্টা’ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকটিকে “অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
এই পরিস্থিতির মধ্যে রোববার ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ ভেঙে দিয়ে জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

















































