সাতকানিয়া প্রতিনিধি >>
তফসিল ঘোষণার পর বন্যার কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা না করে সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠনের ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও ক্রীড়ামোদীদের অভিযোগ, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত এবং পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহাল করে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সাতকানিয়ার বাসিন্দা, জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ এনামুল হক।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ জুলাই সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন এবং তাঁদের প্রতীকও বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২৩ জুলাই ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
পরে ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন ভোটের তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকার মধ্যেই গত ১৮ আগস্ট ইউএনওর স্বাক্ষরিত আদেশে ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
এ ঘটনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া তিনজনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহাদাত হোসাইন তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, নির্বাচন হলে তিনিই জয়ী হতেন। তাঁর মতামত ছাড়াই তাঁকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং দ্রুত পূর্বঘোষিত নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানান। সহসভাপতি নেচার আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মহসিনও কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।’ দ্রুত কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করলে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে হলে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সদস্য হতে হয়। এ বিষয়ে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দাখিলের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে যারা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে পারেননি, তাঁদের প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী এডহক কমিটির মাধ্যমে ৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইউএনওর বক্তব্যের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, ‘মনোনয়ন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচন স্থগিত করা হলো। এরপর প্রত্যয়নপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া এবং কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন কতটা যৌক্তিক, সেটি বিবেচনার বিষয়।’
আবেদনকারী আইনজীবী এনামুল হক বলেন, বন্যার কারণে নির্বাচন স্থগিত হলে পরবর্তীতে নতুন তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা না করে বিনা ভোটে কমিটি গঠন করায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পূর্বের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্বহালের দাবি জানান।
এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


















































