নিজস্ব প্রতিবেদক »
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএসবিআরএ নির্বাচন শনিবার। এর পরপরই নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরীকে হোয়াটসঅ্যাপে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঋণখেলাপির কারণে প্রার্থিতা হারানো ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আমজাদ হোসেনকে ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচনা করে তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন। আদালতের ওই আদেশের পর নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড আগামী শনিবার নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করে।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের মোবাইলে পাঠানো এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আমজাদ হোসেন লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম। যাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন শিডিউল দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে খরচের টাকা বেশি করে নিয়ে নিয়েন। কারণ আপনাকে নির্বাচনের পরে কোর্টে যাতায়াত করতে হবে; তখন তারা আপনার পাশে থাকবে না।”
এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে না চাইলেও নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বার্তাটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “গত ৩ জুন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে তা স্থগিত হয়। পরে ৮ জুন আপিল বিভাগ আমজাদ হোসেনকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই রায়ের আলোকে আমরা ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
অন্যদিকে আমজাদ হোসেন দাবি করেন, “আমি কাউকে হুমকি দিইনি। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে আদালতে যেতে হতে পারে—এ কথাই বলেছি।”
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির অভিযোগে আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। পরে তিনি আপিল করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় আপিল বোর্ড তার আবেদন খারিজ করে দেয়।
পরে হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও নির্বাচন বোর্ড আপিল করলে আপিল বিভাগ ওই আদেশ স্থগিত করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আমজাদ হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে রায় দেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিএসবিআরএ নির্বাচনকে ঘিরে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত বছরের নির্বাচনও নানা জটিলতায় স্থগিত হয়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমজাদ হোসেনকে সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড গঠন করেন এবং তফসিল ঘোষণা করেন। আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায়ের পর নির্বাচন আয়োজনের সব বাধা দূর হয়েছে।



















































