নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তিনি স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এ নির্দেশনা দিয়েছেন।
সোমবার জারি করা এক প্রশাসনিক আদেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চমেক হাসপাতাল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের নিজেদের পছন্দমতো অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান কিংবা অন্য কোনো যানবাহন ব্যবহার করতে বাধা দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরে থেকে আসা বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়িতে রোগী কিংবা মরদেহ পরিবহনের চেষ্টা করা হলে ওই চক্রের সদস্যরা চালকদের হুমকি, মারধর ও হেনস্তা করছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল চত্বরে বৈধ যানবাহনের প্রবেশও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড নাগরিকদের স্বাধীনভাবে চলাচল এবং নিজেদের পছন্দের জরুরি পরিবহনসেবা গ্রহণের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকারের পরিপন্থী। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে রোগী ও তাদের স্বজনদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, জোরপূর্বক নির্দিষ্ট পরিবহনসেবা গ্রহণে বাধ্য করা এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ জনস্বার্থ, জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনিভাবে বাধা দেওয়াসহ প্রযোজ্য বিভিন্ন ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ীও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) নির্দেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
একই সঙ্গে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা কোনো ধরনের হয়রানি বা বাধার শিকার না হয়ে নিজেদের পছন্দের অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য যেকোনো বৈধ যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন হাসপাতাল এলাকায় বৈধ পরিবহনসেবা পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পর আদালতের এই স্বপ্রণোদিত হস্তক্ষেপকে চমেক হাসপাতাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



















































