নিজস্ব প্রতিবেদক »
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা চেক প্রত্যাখ্যান (ডিশঅনার) মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম) ও তার সহোদর মো. আব্দুল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শহিদুল্লাহ কায়সার ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার দায়ের করা ১৪টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার পাওনা রয়েছে ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। এ ঋণের একটি অংশ পরিশোধে দেওয়া ৩৯৩ কোটি ২০ লাখ ৭৯ হাজার ২৬১ টাকার ১৪টি চেক ব্যাংকে উপস্থাপনের পর প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সাতটি করে মোট ১৪টি মামলা দায়ের করে ব্যাংক।
ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী এ এম জিয়া হাবিব আহসান বলেন, সোমবার এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে দায়ের করা ১৪টি মামলায় আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন। এসব মামলায় আব্দুল্লাহ হাসান জামিনে রয়েছেন।
তিনি জানান, চার্জ গঠনের শুনানিতে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাইফুল আলম মাসুদ ও আব্দুল্লাহ হাসান—দুজনের কেউই আদালতে উপস্থিত হননি।
আইনজীবী জিয়া হাবিব আরও বলেন, এস আলম গ্রুপ ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বর্তমানে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে ২৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি পাওনা আদায়ে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮২টি চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগে ওজি ট্রাভেলস লিমিটেডের নামে ৮০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় গত ২১ মে আদালত এস আলম গ্রুপের ১১ কর্ণধারের বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। অন্য অর্থঋণ মামলাগুলোতে আসামিদের পাসপোর্ট আদালতে জমা রাখা এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ হাসান ছাড়া এস আলম পরিবারের অন্য কোনো সদস্য এখন পর্যন্ত আদালতে হাজির হননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংক থেকে। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং বিপুল অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে শিল্পগোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



















































