এ মুহূর্তের সংবাদ

চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) পদে যোগদান করেছেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন

সুপ্রভাত ডেস্ক »

রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এর অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) অপরাহ্নে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, সদ্য বিদায়ী উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, চবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসুর পরিচালক, শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বাংলাদেশের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান অঙ্গনের অন্যতম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রশাসক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন দেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ ৩৭ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের (IFESCU) এর গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস থেকে বন-বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও জিআইএসভিত্তিক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জার্মানির গটিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ে Population Genetics ও Isozyme Studies বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বন অভিযোজন বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করছেন। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটেও (BFRI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

প্রশাসনিক দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট এবং প্ল্যান্টেশন কো-অর্ডিনেটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন, বন ব্যবস্থাপনা, রিমোট সেন্সিং, জিআইএস, কার্বন সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র। তিনি USDA অর্থায়িত “Climate Change and Forest Adaptation” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া UNEP এবং বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এ পর্যন্ত ৬টি গ্রন্থ রচনা, ৬০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ এবং ৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সেমিনার ও কর্মশালায় গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ১৫০-এরও বেশি গবেষণা থিসিস ও প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি সুপরিচিত। এশিয়া-প্যাসিফিক ফরেস্ট্রি এডুকেশন কো-অর্ডিনেশন মেকানিজম (APFECM)-এর নির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্য এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউশনস (APAFRI)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের REDD+ জাতীয় কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

২০০৮ সালে সুইডেনের উমেয়ায় অনুষ্ঠিত IUFRO-FAO আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে “Climate Change and Forest Adaptation” বিষয়ক গবেষণার জন্য তিনি সেরা গবেষণা পুরস্কার অর্জন করেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন।