এ মুহূর্তের সংবাদ

এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সারোয়ার আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক »

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য সারোয়ার আলমগীর অবশেষে শপথ নিয়েছেন। আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার এম. হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

-advertise-

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন সকালে হাইকোর্ট তার মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ের পর সারোয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, আদালত রুল অ্যাবসোলিউট ঘোষণা করেছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাতিলের আদেশ বাতিল হয়েছে এবং সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। এতে তার ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকেনি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করলেও ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ওই আপিলের পর গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে।

এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত গত ২৭ জানুয়ারি তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে নুরুল আমিন আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হলে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।

পরে নিয়মিত আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুত হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় দিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলে সন্ধ্যায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সারোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট