মহানগর

অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম, তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক >>

চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে অবস্থানগত পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে বেসরকারি এরিস্টোকেয়ার হাসপাতালকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ২৯ জুলাই সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় হাসপাতালটির অনুমোদন ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়াই নগরের চকবাজার থানাধীন মেহেদীবাগ এলাকায় হাসপাতালটি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করে। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

শুনানিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে হাসপাতালের তরল বর্জ্যের যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তরল বর্জ্য পরিশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আগে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান জানান, গত ২৯ জুলাই অধিদপ্তরের একটি পরিদর্শক দল হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে অবস্থানগত ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৩ আগস্ট শুনানিতে ডাকা হয়। সেখানে তারা অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করলে আইন অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায় “মেহেদীবাগে অনুমোদন ছাড়াই উদ্বোধন হচ্ছে হাসপাতাল!” শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হাসপাতালটির অনুমোদনসংক্রান্ত নানা অনিয়ম, সিডিএর অনুমোদন জটিলতা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদনের পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরে আসে বিষয়টি এবং পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।