এ মুহূর্তের সংবাদ

দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সেই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ

২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভাঙচুর-বিস্ফোরণ

ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে সন্ত্রাসীদের হামলার পর স্থানীয় লোকজনের ভিড়।ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সুপ্রভাত ডেস্ক »

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে গতকাল রোববার ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ভয়ে ভবনটির কাজ করতে আসছেন না নির্মাণশ্রমিকেরা।

-advertise-

যে ভবনটিতে ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে। বড় দীঘিরপাড়-ভাটিয়ারি লিংক রোডসংলগ্ন আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন ওই ভবনটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী। ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের ঘটনায় ভবনের মালিক বাদী হয়ে গতকাল রাতে হাটহাজারী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনটিতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। নির্মাণকাজ বন্ধ। পাশের একটি নার্সারিতে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। শ্রমিকেরা জানান, গতকাল বিস্ফোরণের পরপরই নির্মাণশ্রমিকেরা আতঙ্কে চলে যান। আজ সকালে কেউ আর কাজে যোগ দেননি। এলাকার বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছেন।

জানতে চাইলে ভবনের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের পর রাতে সন্ত্রাসীরা ফোন করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দিয়েছে। তারা আগে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল। না দেওয়ায় ভবনে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। এখন মামলা করায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। না দিলে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্মাণশ্রমিকেরা ঘটনার পর থেকে আর কাজে আসছেন না। আজ সকালেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা কেউ কাজ করতে আসেননি। দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক ভবনে নির্মাণকাজ করতেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা কেউ মামলার পরও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি নিজেও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী কুরবান আলী জানান, গতকাল সকালে মুখে মাস্ক পরা ৮ থেকে ১০ সশস্ত্র ব্যক্তি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের বাড়ির সামনে টেম্পোতে এসে নামে। তখন নির্মাণাধীন ভবনটিতে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ভবনে ঢুকে শ্রমিকদের মারধর করতে থাকে। এরপর ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে হাসান সাকি নামের এক নির্মাণশ্রমিককে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে আহত করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। কুরবান আলী বলেন, ‘আমাকেও মারধর করে তারা। ব্যথায় রাতে ঘুমাতে পারিনি। ভয়ে আছি আবার কখন এসে হামলা করে।’

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসা রয়েছে। হাটহাজারী থানার বড় দীঘিরপাড় এলাকায় তাঁর দোকান। কয়েক মাস আগে তিনি ১০ তলা বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

নির্মাণাধীন ভবনটিতে ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে রাজি নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, বড় দীঘিরপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন ৮ থেকে ১০টি ভবনে ফোন করে চাঁদা নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। অতীতে এলাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা কখনো ঘটেনি। এলাকাবাসীর উদ্যোগে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বড় দীঘিরপাড়ের অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কে মানববন্ধন হবে বলে জানান তাঁরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদা দাবি ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। লোকজনের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।