চন্দনাইশ প্রতিনিধি >>
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় স্বামীর কোদালের আঘাতে স্ত্রী নুরহাবা (২৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ঘাতক স্বামী মো. সলিম উদ্দিন (৩০)কে ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে আটক করেছে চন্দনাইশ থানা পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড উল্লাপাড়া আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নুরহাবা ও তার স্বামী সলিম উদ্দিন ওই টিনশেড বাসার দুই কক্ষের ভাড়াটিয়া ছিলেন।
নিহত নুরহাবা (২৫) উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ক্যাম্পের মৃত এরশাদ উল্লাহর মেয়ে। আটক স্বামী মো. সলিম উদ্দিন (৩০) একই ক্যাম্পের আব্দুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার উল্লাপাড়া কলোনিতে মো. সলিম উদ্দিন তার স্ত্রী নুরহাবাকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তারা টেকনাফ-উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে এসে কোরবানির আগে এখানে বাসা ভাড়া নেন। প্রায় সময় পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ও ঝগড়াঝাঁটি হতো।
ঘটনার দিন বুধবার প্রতিদিনের মতো সলিম উদ্দিন ভোরে মাঠে কাজ করতে তার ব্যবহৃত সরঞ্জাম নিয়ে বের হন। তবে কাজ না হওয়ায় তিনি আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় তার স্ত্রী নুরহাবা বাড়ির পাশে থাকা পুকুরপাড়ে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সেখানে তাদের দেখা হলে কোনো বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে সলিম উদ্দিন তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে স্ত্রী নুরহাবার ওপর হামলা চালান। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। নুরহাবার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই চন্দনাইশ থানা পুলিশ ও দোহাজারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদারের নেতৃত্বে ঘাতক স্বামী মো. সলিম উদ্দিনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. দিদারুল ইসলাম সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী মো. সলিম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। এজাহার প্রাপ্তির পর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”




















































