সুপ্রভাত ডেস্ক >>
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় ডেভিড ইমন, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ভাঙিয়ে বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদুল আলম।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা এবং ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
এসব অভিযোগের পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশ তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি মোবাইল নম্বর ও WhatsApp ব্যবহার করে ফোন করে হুমকি দেওয়া হতো।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চক্রটি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করত। এরপর সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারীর ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাজার এলাকা এবং খুলশী থানার দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হাটহাজারীর খন্দকিয়ার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫) ও মো. মানিক (৪০), জালালাবাদের মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), ছিপাতলীর আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), চিকনদণ্ডীর আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং খন্দকিয়ার নুরুল আলম (৪০)।
অভিযানে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি, চাঁদাবাজির দুটি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটি—মোট আটটি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত একটি ও ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে। কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি করে মামলা রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদুল আলম বলেন, “সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা এ ধরনের অপকৌশলের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্য এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















































