বিজনেস

কেইপিজেড বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির উদ্ভিদ

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি >>

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) বোটানিক্যাল গার্ডেনে উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ গার্ডেনে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির বৃক্ষ, গুল্ম, লতা, বিরুৎ, জলজ ও ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ ১৬টি ভিন্ন সেকশনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

---------

গার্ডেনে দেশীয় উদ্ভিদের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন দুর্লভ ও বিদেশি প্রজাতির উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের আকৃষ্ট করছে। ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে গার্ডেনে উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা ২ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ ২ লাখ দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর কার্যক্রম শুরু করে। এ সময় কেইপিজেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ শাহজাহান বোটানিক্যাল গার্ডেনে চিকরাশি গাছের চারা রোপণ করেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কেইপিজেড এলাকায় জাম, গামারি, গর্জন, চাপালিশ, চিকরাশি, লৌহকাঠ, সেগুন ও চম্পাসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কেইপিজেডের বিদ্যমান ৫২ শতাংশ সবুজায়নকে আরও উন্নত ও টেকসই করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ৫২ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কেইপিজেড বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা গার্ডেনের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন এবং সংরক্ষিত দেশীয়, দুর্লভ ও বিদেশি উদ্ভিদ প্রজাতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

পরিদর্শনকারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানান, একটি শিল্পাঞ্চলের মধ্যে এমন বৈচিত্র্যময় বোটানিক্যাল গার্ডেন পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণেও এটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিচালক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “গার্ডেনটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশীয় ও দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য গার্ডেনটিকে আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”