ঈদুল ফিতর : বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা নিয়ে আসুক

75

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। একমাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের ১ তারিখে বিশ্বের মুসলিমরা এই উৎসবটি পালন করে থাকেন সাড়ম্বরে।
ঈদ মানে আনন্দ বা খুশির উৎসব। ‘ঈদ’ শব্দটি আরবি, শব্দমূল ‘আউদ’। এর অর্থ এমন উৎসব, যা ফিরে-ফিরে আসে, পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়, রীতি হিসেবে গণ্য হয় প্রভৃতি। এর অন্য অর্থ খুশিÑআনন্দ। উচ্ছলÑউচ্ছ্বাসে হারিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। ঈদ প্রতিবছর চান্দ্র বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখে রীতিতে এক অনন্য আনন্দবৈভব বিলাতে ফিরে আসে।
একমাস কঠোর সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নানা নিয়মকানুন পালনের পর উদযাপিত হয় ঈদুল ফিতর; অন্যকথায় রোজার ঈদ। ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেওয়া। আরেক অর্থে বিজয়। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর যে উৎসব উদযাপন করা হয়, তাই ঈদুল ফিতরের উৎসব অর্থাৎ আনন্দময় বিজয়। বিজয় শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গোটা রমজান মাস রোজা রেখে আল্লাহভীরু মানুষ তাঁর ভেতরের সব রকমের বদভ্যাস ও খেয়াল-খুশিকে দমন করার মাধ্যমে এক রকমের বিজয় অর্জন করেন। সেই অর্থে এটিকে বিজয় হিসেবেও দেখা যায়।
সব মিলিয়ে ঈদুল ফিতরকে প্রকৃতই বিজয় উৎসব বলা যেতে পারে। তাছাড়া এদিন প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে সত্যনিষ্ঠ জীবনযাপনের তাগিদ এবং মানবতার বিজয়বার্তা। তবে প্রচলিত নিয়মে দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার পর সেই কৃচ্ছৃতাকে স্মরণীয় করার নামই ঈদ উৎসব। ‘ঈদুল ফিতর’ শব্দ দুটিও আরবি, যার অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ, খুশি, রোজা ভঙ্গকরণ ইত্যাদি। সুদীর্ঘ একটি মাস কঠোর সিয়াম সাধনা ও ইবাদতÑবন্দেগির পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামতের শোকরিয়া স্বরূপ যে আনন্দ উৎসব পালন করে, সেটিই ঈদুল ফিতর। এদিন ঈদের নামাজের আগেই প্রতিটি মুসলিম অভাবী ও দুস্থদের মাঝে ফিতরার অর্থ দিয়ে বিতরণ করে থাকেন।
এটি প্রদান করা মুসলিমদের জন্য ওয়াজিব। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অতিরিক্তের জন্য সামর্থ্যবান মুসলিমদের জাকাত দিতে হয়। এই জাকাত বাৎসরিক হিসাব মোতাবেক হয়ে থাকে। রমজান মাসে প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব সত্তর গুণ বেশি হওয়ায় সবাই এই মাসে জাকাত আদায় করে থাকেন।
তবে এই আনন্দের সঙ্গে একটু বেদনার কথাও বলতে হয়। গত ২০২০ সাল থেকে করোনাভাইরাসের ছোবলে বিশ্বের দেশে দেশে বহু মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছেন। এ বছরও তার ব্যাপক জের থেমে নেই। বাংলাদেশও ওই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। এখানেও কয়েক হাজার মানুষ এর সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছেন। মহান আল্লাহপাক এই পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের দিনে আমাদের প্রার্থনা কবুল করুন। আগামী দিনগুলোতে জাতিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত করুন।