সুপ্রভাত ডেস্ক »
আহলে বায়তে রাসুল স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হচ্ছে দশদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। আগামী বুধবার বাদ আসর থেকে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্লাজায় শুরু হবে চার দশক ধরে চলে আসা এ মাহফিল।
এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি। ৪১তম কারবালা মাহফিলের আয়োজন করেছে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদ।
সোমবার দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, মাহফিলে বাগদাদ থেকে বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানি (রা.) দরবারের সাজ্জাদানশীন ও বংশধর শাহসুফি সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল মনসুর আল জিলানি এবং ভারতের টিপু সুলতান জামে মসজিদের খতিবর বিশ^বরেণ্য আলেম শাহসুফি সাখাওয়াত হোসেন বরকতী অংশ নেবেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, মেয়র, এমপিরা মাহফিলে অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফি বলেন, আগে সীমিত আকারে হলেও শাহাদাতে কারবালা মাহফিল এখন সারাদেশে সফলতা পেয়েছে। এই মাহফিলের উদ্দেশ্য হলো- আহলে বায়তে রাসুল ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে তাঁরা যে মর্যাদা পেয়েছেন; সেটা আলোচনা না হলে মুসলিম উম্মাহ অন্ধকারে চলে যাবে। সেই অন্ধকার থেকে বের করে আনতেই শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের প্রয়োজন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত ইসলামের সীমার মধ্যে থেকে আহলে বায়তে রাসুলকে স্মরণ করে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগ বলেন, চার দশক আগে আল্লামা জালাল উদ্দিন আল কাদেরি (র.) শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের শুরু করেছিলেন; তখন তাঁকে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কারণ তখন শাহাদাতে কারবালা মানে ছিল মিছিল এবং শোকের মাতম। কিন্তু আহলে বাইতের প্রেম যে শোক না, এটা যে একটা শক্তি, নতুন উদ্দীপনা সেই জিনিসটা তিনি এ মাহফিলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন আমাদের শিখিয়েছেন। তিনি চার দশক আগে যে মাহফিল শুরু করেছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআতের আলেমরা এখন পর্যন্ত সেই মাহফিলে আমাদের সঙ্গে আছেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, খতীবে বাঙাল মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী ১৯৮৬ সালে এ মাহফিলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে। হিজরি নববর্ষ, মাহে মুহাররম এবং আহলে বায়তে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্মরণ ও তাঁদের আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মাহফিল এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
আলী হোসেন সোহাগের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাওলানা জাফর উল্লাহ। তিনি বলেন, মুহাররম মাস ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত ৬১ হিজরির ১০ মুহাররম কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহলে বায়তের সদস্যগণ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায়, সাহস ও ঈমানি দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
কারবালার শিক্ষা কেবল শোকের নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবতা ও সত্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) আমাদের শিখিয়েছেন, অন্যায় ও অসত্যের সঙ্গে আপস না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। বর্তমান বিশ্বে যখন সহিংসতা, বিভেদ ও মানবিক মূল্যবোধের সংকট বাড়ছে, তখন কারবালার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামের মূল শিক্ষা হলো ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণ। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল সেই শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে মানুষ আহলে বায়তের জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে পারে এবং ঈমানি চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়।
মাহফিলে প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারী শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল-আযহারী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ মাহফিল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা ও আদর্শের আলোকে পরিচালিত হয়। এখানে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সম্প্রীতি এবং আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা প্রচার করা হয়। বিভেদ নয়; বরং ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানব কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদুর রহমান, আবদুল হাই মাসুম, পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদ, মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিরাজুল মোস্তফা, হাফেজ মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ্, মুহাম্মদ মাঈনুদ্দিন মিঠু, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, আবুল মনসুর শিকদার, জাফর আহমদ সওদাগর, আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মুহাম্মদ জহির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

















































