এ মুহূর্তের সংবাদ

৫ বছরে তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে

পরিবেশমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক »

আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে স্যাটেলাইট, জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি এবং জাতীয় ট্রি ডাটাবেজ ব্যবহার করে প্রতিটি গাছের অবস্থান ও টিকে থাকার হার পর্যবেক্ষণ করা হবে।

-advertise-

একইসঙ্গে এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান (গ্রিন জব) সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (০৮ জুলাই) সচিবালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

তিনি বলেন, রাজধানীতে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিন এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় থাকবে ১২০টি স্টল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরে বন অধিদপ্তর দেশের বৃক্ষহীন এলাকা, সড়ক, খাল, বাঁধ ও উপকূলীয় অঞ্চলে ১ কোটি ৫০ লাখ দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করছে। একই সঙ্গে জবরদখলমুক্ত করা ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর বনভূমিতে নতুন বনায়ন করা হচ্ছে। এরইমধ্যে ৮৩ লাখ ৩২ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৭ শতাংশ।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বনায়ন কার্যক্রমকে ‘স্মার্ট ফরেস্ট্রি’ ধারণার আওতায় আনা হচ্ছে। রোপণ করা গাছের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে এবং দুর্গম চরাঞ্চল, উপকূল ও বনাঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।

পরিবেশ দূষণ রোধে সরকারের অভিযান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১১২টি অবৈধ কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এ ছাড়া গত চার মাসে পরিবেশ দূষণবিরোধী ২২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৪৮৬টি মামলা করা হয়। এসব অভিযানে ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায়, ৭৩টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া এবং ৪৯টি অবৈধ ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গত চার মাসে ৫৮১ একরের বেশি দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মানুষ ও বন্য প্রাণীর সংঘাত কমাতে ৩৪ কিলোমিটার পরিবেশবান্ধব রশির বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে। একই সময়ে বন্য প্রাণী পাচার ও অবৈধ বেচাকেনার বিরুদ্ধে ৩৫টি অভিযান চালিয়ে ৫৫৭টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সচিবালয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার কমাতে চারটি মনিটরিং টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ইউনিসেফের সহযোগিতায় ২০২৬-২০৩৫ মেয়াদের ‘লিড-ফ্রি বাংলাদেশ’ কৌশলপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনকারীদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকাও প্রণয়নের কাজ চলছে।