ফিচার এলাটিং বেলাটিং

বিশ্বকাপে বড় শিক্ষা

মোহাম্মদ শরীফ »

সন্ধ্যা নেমেছে। পশ্চিম আকাশে লাল আভা মিলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের শিশুরা প্রতিদিনের মতো গল্পওয়ালী বুড়ির উঠোনে গোল হয়ে বসেছে। সবার চোখে-মুখে কৌতূহল। রনি হেসে বলল, গল্পওয়ালী আজ আমাদের গল্প শোনাবে না?

-advertise-

বুড়ি স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই শোনাবো। আজ এমন একটি গল্প বলব, যা শুধু তোমাদের নয়, আমাদের সবার জীবনে কাজে লাগবে।

তিনি ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন, তোমরা কি ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের দর্শকদের দেখেছ? খেলা শেষ হওয়ার পর তারা আনন্দে চিৎকার করে বাড়ি ফিরে যায় না। বরং নিজেদের বসার জায়গার ময়লা কুড়িয়ে ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে। তারা বিশ্বাস করে, পরিচ্ছন্নতা অন্য কারও দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক সচেতন মানুষের কর্তব্য।

নীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

দাদি, এত মানুষ থাকতে তারা নিজেরাই কেন এই কাজ করে?

বুড়ি মুচকি হেসে বললেন, কারণ তারা ছোটবেলা থেকেই শিখেছে, নিজের ব্যবহৃত স্থান পরিষ্কার রাখা ভদ্রতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের অংশ। যে কাজ আমি করি, তার দায়িত্বও আমার।

পরদিন বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে বিস্কুটের মোড়ক, বাদামের খোসা ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলে চলে যাচ্ছিল। রনির মনে গল্পওয়ালী বুড়ির কথা ভেসে উঠল। সে বন্ধুদের নিয়ে সব ময়লা কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলল। তাদের এই কাজ দেখে অন্য শিক্ষার্থীরাও এগিয়ে এলো। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো স্কুল মাঠ ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে গেল।

প্রধান শিক্ষক বিষয়টি দেখে আনন্দিত হয়ে বললেন, আজ তোমরা শুধু একটি মাঠ পরিষ্কার করোনি; তোমরা একটি মহৎ অভ্যাসের সূচনা করেছ। একটি পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয় থেকেই পরিচ্ছন্ন সমাজ, আর পরিচ্ছন্ন সমাজ থেকেই গড়ে ওঠে সুন্দর দেশ।

সেদিন থেকে বিদ্যালয়ে একটি নতুন নিয়ম চালু হলো নিজের ময়লা নিজেই ফেলব, অন্যকেও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দেব।’ ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষও শিশুদের অনুসরণ করতে শুরু করল। রাস্তা, মাঠ, বাজারসব জায়গায় পরিচ্ছন্নতার চর্চা বাড়তে লাগল। গ্রামের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়ে উঠল।

গল্প শেষ করে গল্পওয়ালী বুড়ি বললেন, মনে রেখো, পরিচ্ছন্নতা শুধু পরিবেশকে সুন্দর করে না, মানুষের মন, চরিত্র ও জাতিকেও সুন্দর করে। নিজের কাজ নিজে করা এবং চারপাশ পরিষ্কার রাখা একজন আদর্শ নাগরিকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ।