এ মুহূর্তের সংবাদ

 আমা কফি দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টের ১৪তম গ্র্যান্ড ফিনালে

চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রানার আপ চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়

সুপ্রভাত ডেস্ক »

মেইক লোকাল, বিজনেস গ্লোবাল’ এই দর্শনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পর্যটনকে বিশ্বমানের গন্তব্যে রূপান্তরের লক্ষ্যে উদ্ভাবনী পরিকল্পনা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে আমা কফি দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্ট-এর ১৪তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালে।

-advertise-

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা-মানসিকতা এবং বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিকাশে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘চট্টগ্রামকে পর্যটন খাতে আরও উন্নত করতে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে।’

গত ৩ জুলাই চট্টগ্রামের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। কয়েকটি বাছাইপর্ব ও উপস্থাপনা পর্ব অতিক্রম করে চারটি দল গ্র্যান্ড ফিনালে জায়গা করে নেয়। চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দল, চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির এবং সাদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের।

ফাইনাল পর্বে প্রতিযোগীরা চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাদের প্রস্তাবনায় পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল প্রচারণা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিনির্ভর পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রামকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার নানা দিক স্থান পায়। উপস্থাপনা শেষে বিচারকরা প্রতিটি দলের পরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতা, আর্থিক সম্ভাবনা, উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিযোগী দলগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর দেয়।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরভ অর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রানার আপ হয় চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেট বিশ্ববিদ্যালয়।
উল্ল্যেখ ২০১০ সালে দৃষ্টি চট্টগ্রামের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এবারের প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর ছিল আবুল খায়ের গ্রুপের অন্যতম ব্র্যান্ড ‘আমা অথেনটিক ব্রাজিলিয়ান কফি’। ভেন্যু পার্টনার হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে ছিল জি. আর. মেটাল।

গ্র্যান্ড ফিনালে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও গীতিকার আসিফ ইকবাল, নগরপরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি আশিক ইমরান, নারী উদ্যোক্তা ও সংগঠক শারমীন হোসেন, দৈনিক আগামীর সময়-এর যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়েস চৌধুরী।

প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার শাহাদাৎ হোসেন। অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার।

এসময় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আদনান মানান, দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সাবের শাহ, দৃষ্টি চট্টগ্রামের নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী মুন্না মজুমদার, প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন মুন্না এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী মুজিবুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে বলেন, দৃষ্টি চট্টগ্রাম বহু বছর ধরে চট্টগ্রামের সামাজিক ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্র নিয়ে দারুণ কাজ করে যাচ্ছে। এই চমৎকার বিজনেস কনটেস্টে চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা ‘জলাবদ্ধতা’ নিয়ে কাজ করা যেতো। এটি করা হলে আমাদের তরুণরা এই সমস্যাটি নিয়ে কী ভাবছে এবং তাদের মাথায় কী ধরনের নতুন আইডিয়া ঘুরছে, তা সুন্দরভাবে উঠে আসত। তরুণরা চাইলে চট্টগ্রামের এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিয়ে ভেবে যুগান্তকারী সমাধান বের করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সাধারণ চোখে দেখার পাশাপাশি মনের ভেতর থাকা তৃতীয় দৃষ্টি বা দূরদর্শিতা দিয়ে চারপাশকে দেখা প্রয়োজন। আজ ‘দৃষ্টি’ চট্টগ্রাম তরুণদের তীক্ষè দৃষ্টিস¤পন্ন করে গড়ে তোলার সেই মহৎ কাজটিই করছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নাগরিক সচেতনতার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা চসিকের পক্ষ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অনেক এলাকায় এর সুফল মিললেও কিছু জায়গায় এখনো আমরা পুরোপুরি জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে পারছি না। এর পেছনের কারণ আমাদের একটু ভেবে দেখা দরকার। শহরের অনেক ড্রেন ময়লা-আবর্জনা দিয়ে বন্ধ হয়ে আছে। মানুষ নিজেরা সচেতন না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শহরকে সুন্দর রাখা শুধু মেয়রের একার দায়িত্ব নয়, আমাদের সবাইকে নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সবশেষে চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা ও পাহাড় কাটা বন্ধে চসিকের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে পাহাড় কাটা বন্ধ হয়েছে। ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে শতাধিক মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এবার রেকর্ড পরিমাণ অতিবৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে তেমন কোনো বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। এর কারণ আমরা পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোরভাবে কাজ করছি। চসিক সবসময় সজাগ ও তৎপর রয়েছে, যাতে কোনো পাহাড় খেকো চক্র নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামের পর্যটন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সময়োপযোগী পরিকল্পনা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘মেইক লোকাল, বিজনেস গ্লোবাল’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে স্থানীয় সম্পদ, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।

তাদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণদের সৃজনশীল ধারণাকে বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় রূপ দিতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী দিনেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বিকাশ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। তাদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন প্রজন্মের দক্ষ, সৃজনশীল ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে, যারা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।