সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় কোস্টগার্ডের অভিযানে উন্মোচিত হওয়া জেট ফুয়েল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ চুরি বা কালোবাজারির ঘটনা নয়; এটি একাধারে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং চরম জননিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা থাকা পদ্মা অয়েলের একটি ট্যাংকলরি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে পৌঁছে যায় চোরাকারবারিদের আস্তানায়। সেখানে সুইমিংপুলের মতো কৃত্রিম চৌবাচ্চা বানিয়ে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে মজুত করা হচ্ছিল এই বিশেষ জ্বালানি। এই কাণ্ডজ্ঞানহীন অপরাধের তীব্র নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।
জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি সাধারণ কোনো তরল নয়। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চমাত্রায় দাহ্য রাসায়নিক। আবাসিক কিংবা লোকালয়-সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া, খোলা চৌবাচ্চায় এই জ্বালানি মজুত করা মানে একটি জীবন্ত টাইমবোমা জ্বেলে রাখা। যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোটখাটো স্ফুলিঙ্গ থেকে সেখানে অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত, যা পুরো পতেঙ্গা এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। যারা সামান্য কয়েক টাকার লোভে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে এমন চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তারা আর যাই হোক, সাধারণ অপরাধী নয়। তারা দেশ ও মানবতার শত্রু।
এ ঘটনায় কেবল জানমালের ঝুঁকিই তৈরি হয়নি, বরং বিমানের সুরক্ষাও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চোরাকারবারিরা যখন ট্যাংকলরি থেকে তেল নামিয়ে সেখানে অন্য কোনো কম দামি বা ভেজাল জ্বালানি মিশিয়ে দেয়, আর সেই তেল যদি কোনোভাবে উড়োজাহাজে সরবরাহ করা হতো, তবে মাঝআকাশে শত শত যাত্রীসহ বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। ফলে, এই চক্রটি পরোক্ষভাবে একটি সম্ভাব্য বিমান বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের সঙ্গেই লিপ্ত ছিল।
এ ছাড়া, সরকারি তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার সিন্ডিকেটের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় অপরাধ সংঘটন করা অসম্ভব। এরই মধ্যে পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে অতীতে দেখা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তের মধ্যেই শাস্তির প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকে। কিছুদিন পর অপরাধীরা আবার পর্দার আড়ালে পার পেয়ে যায়। এই সংস্কৃতির অবসান ঘটা জরুরি।
এই বিপজ্জনক ও দেশবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু তেলের বাজারমূল্য হিসাব করে সাধারণ চুরির মামলা দিলে চলবে না। এদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনতে হবে:
জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টার অপরাধে এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা পরিচালনা করতে হবে।
জনজীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির অপরাধে মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে চোরাকারবারিদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা দরকার।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের শুধু চাকরিচ্যুত করলেই হবে না, তাদের সরাসরি এই অপরাধের অংশীদার হিসেবে গণ্য করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ট্যাংকলরি এবং এর মালিকপক্ষকে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে, যেন কোনো সরকারি সংস্থা তাদের আর ব্যবহার করতে না পারে।
গভীর রাতে জনবসতির পাশে সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চায় জেট ফুয়েল কিংবা সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুত আমাদের রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোস্টগার্ডের তৎপরতায় এবার বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
লোভী চোরাকারবারি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ঘরের শত্রুদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যা দেখে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।
জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি সাধারণ কোনো তরল নয়। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চমাত্রায় দাহ্য রাসায়নিক। আবাসিক কিংবা লোকালয়-সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া, খোলা চৌবাচ্চায় এই জ্বালানি মজুত করা মানে একটি জীবন্ত টাইমবোমা জ্বেলে রাখা। যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোটখাটো স্ফুলিঙ্গ থেকে সেখানে অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত, যা পুরো পতেঙ্গা এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। যারা সামান্য কয়েক টাকার লোভে লাখ লাখ মানুষের জীবনকে এমন চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তারা আর যাই হোক, সাধারণ অপরাধী নয়। তারা দেশ ও মানবতার শত্রু।
এ ঘটনায় কেবল জানমালের ঝুঁকিই তৈরি হয়নি, বরং বিমানের সুরক্ষাও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চোরাকারবারিরা যখন ট্যাংকলরি থেকে তেল নামিয়ে সেখানে অন্য কোনো কম দামি বা ভেজাল জ্বালানি মিশিয়ে দেয়, আর সেই তেল যদি কোনোভাবে উড়োজাহাজে সরবরাহ করা হতো, তবে মাঝআকাশে শত শত যাত্রীসহ বিমান দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। ফলে, এই চক্রটি পরোক্ষভাবে একটি সম্ভাব্য বিমান বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের সঙ্গেই লিপ্ত ছিল।
এ ছাড়া, সরকারি তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার সিন্ডিকেটের সহযোগিতা ছাড়া এত বড় অপরাধ সংঘটন করা অসম্ভব। এরই মধ্যে পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে অতীতে দেখা গেছে, এ ধরনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তের মধ্যেই শাস্তির প্রক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকে। কিছুদিন পর অপরাধীরা আবার পর্দার আড়ালে পার পেয়ে যায়। এই সংস্কৃতির অবসান ঘটা জরুরি।
এই বিপজ্জনক ও দেশবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু তেলের বাজারমূল্য হিসাব করে সাধারণ চুরির মামলা দিলে চলবে না। এদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনতে হবে:
জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টার অপরাধে এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা পরিচালনা করতে হবে।
জনজীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির অপরাধে মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে চোরাকারবারিদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা দরকার।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের শুধু চাকরিচ্যুত করলেই হবে না, তাদের সরাসরি এই অপরাধের অংশীদার হিসেবে গণ্য করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ট্যাংকলরি এবং এর মালিকপক্ষকে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে, যেন কোনো সরকারি সংস্থা তাদের আর ব্যবহার করতে না পারে।
গভীর রাতে জনবসতির পাশে সুইমিংপুলের মতো চৌবাচ্চায় জেট ফুয়েল কিংবা সয়াবিন তেলের অবৈধ মজুত আমাদের রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। কোস্টগার্ডের তৎপরতায় এবার বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে, কিন্তু এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।
লোভী চোরাকারবারি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক ঘরের শত্রুদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যা দেখে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের নিরাপত্তা এবং মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায়।




















































